দুষ্কৃতিদের হাতে থেকে প্রাণে বাঁচলেন পুরুলিয়ার বিজেপি নেতা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ এপ্রিল: দুষ্কৃতীদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচলেন পুরুলিয়ার বিজেপি নেতা। পুরুলিয়া শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেতিকা এলাকার প্রফেসর কলোনির ওই বাসিন্দা প্রদীপ ব্যানার্জি উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতী। বিজেপি নেতা প্রদীপ বাবু জানান, সোমবার রাত সোয়া দশটা নাগাদ তাঁর বাড়ির সামনেই ঘটনাটি ঘটে। রোজকারের মতো ওই সময় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাড়ি ঢোকার আগেই একজন দুষ্কৃতী আচমকা রিভলবার নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর চেষ্টা চালায়। দু তিন বার স্টিগার চালালেও গুলি না বেরনোয় অসফল হয়ে ছুটে পালিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতী। কিছুটা সাহস দেখিয়েই
প্রদীপবাবু চিৎকার করে ধর ধর করে দুষ্কৃতিকে ধাওয়া করেন। দূরে গাড়িতে অপেক্ষায় থাকা সঙ্গীর সঙ্গে এলাকা থেকে পালাতে সক্ষম হয় ওই হামলাকারী। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকের সঙ্গে পুরুলিয়া সদর থানায় ঘটনার কথা জানান ওই বিজেপি নেতা।

পেশায় বাস মালিক প্রদীপ ব্যানার্জি ওই এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি। সমাজসেবার কাজেও সারা বছর যুক্ত থাকেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুরুলিয়া পুরসভার তাঁর ওয়ার্ডের কংগ্রেস দলের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যেই তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি জানান, “গুলি না বেরোনোয় খুব জোর বেঁচে গেছি। নাহলে ঘটনাস্থলেই মারা যেতাম। কী কারণে আর কারাই বা হামলা চালালো বুঝে উঠতে পারছি না।” সোমবার রাত থেকেই পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ দুষ্কৃতীর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

বিজেপির পুরুলিয়া শহর দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী বলেন, “পুরুলিয়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটত না। রিভলবার থেকে গুলি না বেরোনয় প্রদীপদা রক্ষা পেলেন। কারও ক্ষতি তিনি করেন নি। অথচ, তাঁকে মারতে চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। আমরা পুলিশের কাছে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *