জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৮ এপ্রিল:
তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের অঙ্ক কষছে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। নির্বাচনের আগে এবং পরে এই কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, তিন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমানে। তিনজন প্রার্থীও একই ভাবে জয়ের বিষয়ে আত্মপ্রত্যয়ী। তৃণমূলের বিরবাহা হাঁসদা ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন এখানকার দু’বারের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুকুমার হাঁসদা প্রয়াত হওয়ার কারণে। প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এলাকায় ঘোরার সময় পাননি তিনি। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে প্রচারের জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে সেইসব এলাকায় পাঠিয়েছেন। বিরবাহা জানিয়েছেন, মানুষ ভোট দিয়েছেন জোট বেঁধে এবং তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষেই নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। তাই ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। যদিও প্রার্থী ঘোষণার একদিন আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিরবাহাকে দলের একটি অংশ মেনে নিতে পারেনি বলে ভোট প্রচারে সেভাবে অংশগ্রহণ না করার অভিযোগ ওঠে। তা সত্ত্বেও জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিরবাহা।
এই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মধুজা সেন রায় যে তৃণমূল এবং বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে নির্বাচনের প্রাক্কালে এবং পরে তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। কারণ ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দারা অনেকেই বলেছেন, কেন্দ্রটি সাধারণ হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল প্রথম থেকেই এখানে প্রার্থী করার বিষয়ে সাধারণ সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দেয়নি। সুকুমার হাঁসদা দুবার বিধায়ক হওয়ার পর এবার শহরবাসী আশা করেছিলেন সাধারণ প্রার্থীর। এর ফলে তাদের মনে বেশ কিছুটা ক্ষোভ জন্মায়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই কারণে সিপিএমের ভোট এবার সিপিএমের চিহ্নেই ফিরে গেছে। প্রার্থী হিসেবেও যথেষ্ট উপযুক্ত মধুজা সেন রায়। রাজ্যের বাম রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়া মধুজা গত বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে মন্ত্রী অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও মাত্র দশ হাজার ভোটে হেরে যান। মধুজা জানিয়েছেন, বামেদের যে ভোট অন্যত্র চলে গিয়েছিল তা এবার ফিরে এসেছে এটুকু বলতে পারি। তৃণমূল এবং বিজেপির সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই দিতে পেরেছি। আর জয়-পরাজয় মানুষের উপরই ছেড়ে দিয়েছি।
জয় নিয়ে কোনওরকম সংশয় নেই বিজেপি প্রার্থী সুখময় সৎপথির। ভোট পরবর্তী কালে বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে তিনি তার জয় সম্বন্ধ্যে একশ শতাংশ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম শহরে বিজেপির জেলা কার্যালয়য়ে বসে তিনি জানালেন, নির্বাচনের আগে যেমন মানুষের সঙ্গে ছিলাম পরেও মানুষের সঙ্গে রয়েছি। ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে এবার ভোট নির্বিঘ্নেই হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। লোকসভা ভোটের মতো বিধানসভা নির্বাচনেও বামপন্থীদের একটি অংশ পদ্মফুলেই ভোট দিয়েছেন বলে খবর। তাছাড়াও তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ জঙ্গলমহলের মানুষ উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে বিজেপিকেই দলবেঁধে ভোট দিয়েছেন। তাই আমার জয় সুনিশ্চিত।

