আমাদের ভারত, ১ নভেম্বর: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম কালীপুজো তথা দীপাবলি উৎসব। দুর্গাপুজোয় চোরবাগান কাণ্ডের পর এবার কালীপুজোয় আরো বেশি তৎপর শুভেন্দু অধিকারী প্রসাশন। কলকাতা সব রাজ্যের সব জায়গায় যাতে নির্বিঘ্নে কালীপুজো হয় সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা। জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। এবার কালীপুজোয় বড় চমক থাকছে শহরের উপকণ্ঠে। বারাসত কিংবা শহরতলীকে টেক্কা দিতে তৈরি এবার নিউ টাউন। এখানে এবার আয়োজিত হচ্ছে বাংলার সব থেকে বড় দীপাবলি, সৌজন্যে নিউটন সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটি।
তৃণমূল সরকারের আমলে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে হয়েছিল নিউ টাউনের সনাতনী দুর্গা পূজো কমিটিকে। যার সঙ্গে প্রথম দিন থেকে যুক্ত শুভেন্দু অধিকারী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলার মাটিতে সেই কমিটিকে পুজো করতে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন প্রশাসনের নাকি সনাতনী শব্দে আপত্তি ছিল। ফলে দফায় দফায় এসেছে বাধা। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বাংলায় ক্ষমতায় এখন বিজেপি সরকার। পরিবর্তনের বাংলায় একেবারে ধুমধাম করে নিউটাউনে দুর্গাপুজো করেছে সনাতনী, দুর্গাপুজো কমিটি।
এবার পালা কালীপুজোর। শক্তি পুজোয় কোনো খামতি রাখতে চায় না সনাতনী দুর্গা পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। জানাগেছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নিউ টাউন মেলা প্রাঙ্গনে এই দীপাবলির আয়োজন করা হয়েছে। কালী পুজোর পাশাপাশি আলোর উৎসবে সেজে উঠবে ওই প্রাঙ্গন।
৮ ও ৯ নভেম্বর জুড়ে হবে অনুষ্ঠান। শুধুমাত্র দীপাবলিতে একসঙ্গে ১ লক্ষ ১১ হাজার একশো ১১১টি প্রদীপ জ্বালানো হবে এই প্রাঙ্গণে। বাংলার বুকে সব থেকে বড় দীপাবলির আয়োজন বলে দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের।
এ প্রসঙ্গে পুজো উদ্যোক্তারা জানান, ৮ তারিখে ধুমধাম করে কালীপুজো হবে। ৯ নভেম্বর হবে আতশবাজি প্রদর্শনী। থাকবে পরিবেশ বান্ধব বাজি। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, তাই মুখ্যমন্ত্রীকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। পুজো উত্ত্যক্তাদের কথা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে আগে কখনো এরকম পুজো দেখা যায়নি। ঠিক যেমন ভাবে মহালয়ার দিন শহরের আকাশে আলোর খেলা এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল, সেভাবেই পরিবর্তনের বাংলায় কালীপুজোও নজর কাড়বে।

