আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১ নভেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরনগরে মতুয়া গোঁসাই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন তিনি। ঠাকুরনগরে পুরসভা গঠন, মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির নির্মাণ, বারুণী মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ- সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া সমাজের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাতেও নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপস্থিত মানুষজন।
এদিন ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছে প্রথমে শ্বেতমন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে কামনাসাগর- সহ হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির ঘুরে দেখেন তিনি। নিজের সরকারি গাড়ি ছেড়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের গাড়িতে চেপে ঠাকুরবাড়িতে প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। সাংসদ- পত্নী তথা বিধায়ক সোমা ঠাকুর নিজে হাতে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নানা পদের রান্নার আয়োজন করেন। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে আর কোনও ভেদাভেদ বা বিভাজনের রাজনীতি চলবে না।
এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই সরকার আপনাদের সরকার। চিকিৎসা, ভাতা- সহ যে সমস্ত সুযোগ- সুবিধা প্রয়োজন, নিয়ম মেনে সব করে দেওয়া হবে। আমি আপনাদের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই।”
মতুয়াদের নাগরিকত্বের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ সিএএ আবেদনকারী রয়েছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই সিএএ শংসাপত্র পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। সিএএ শংসাপত্রপ্রাপ্ত তফসিলি জাতিভুক্তদের এসসি সার্টিফিকেট পেতে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে তিন হাজার টাকা এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিদের দেড় হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাতে মতুয়া পরিবারগুলিকে হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে একজন নির্দিষ্ট আধিকারিক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন।
ঠাকুরবাড়ির শ্বেতমন্দির সম্প্রসারণ করে নতুন মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থে মন্দির নির্মাণ করা হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ভূমিপুজোয় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি বারুণী মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ঠাকুরনগরে পৃথক পুরসভা গঠনের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে পুরসভা তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে এবং ধাপে ধাপে কাজ এগোবে। তাঁর একগুচ্ছ ঘোষণাকে ঘিরে সম্মেলনস্থলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও নাগরিকত্বের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলি আগামী দিনে কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।

