পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
৩১ অক্টোবর: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় প্রাক্তনী সম্মিলন ‘সাগরে ফেরা’ অনুষ্ঠিত হয়। এই মহামিলন উৎসবে ৮০০-রও বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক- শিক্ষিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধি এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। স্মৃতিচারণ, ঐতিহ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাক্তনীদের আত্মিক বন্ধনের এক বর্ণময় উদ্যাপনে পরিণত হয় এই মহতী অনুষ্ঠান।

‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা উপস্থিত সকলের মনে গভীর আবেগের সঞ্চার করে। এরপর পণ্ডিত রবিশঙ্করের কালজয়ী সুরসৃষ্টি ‘স্বাগতম শুভস্বাগতম’ পরিবেশিত হয়। এই সুরেলা সূচনা সমগ্র অনুষ্ঠানকে এক উষ্ণ ও আবেগঘন আবহে ভরিয়ে তোলে এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি গভীর গর্ব ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি এবং রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর, প্রাক্তনী থেকে বিধায়ক হওয়া ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত, ড. চন্দ্রশেখর মণ্ডল, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনী সংসদের সভাপতি অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল, কলা ও বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরেশচন্দ্র জানা, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী এবং প্রাক্তনী সংসদের সম্পাদক ড. প্রভাস কুমার সিং- সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট প্রাক্তনী সম্মানপ্রাপক অধ্যাপক অভিজিৎ গুহ ও ড. সর্বশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তরুণ প্রাক্তনী সম্মানপ্রাপক ড. বরুণ মাহাতও উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় উপাচার্য তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ড. গুচ্ছাইতও এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এর অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গীতিআলেখ্য, নৃত্য, সঙ্গীত, নাট্য পরিবেশনা- সহ নানা সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিভিন্ন প্রজন্মের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁরা স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে যান তাঁদের ছাত্রজীবনের সোনালি দিনগুলিতে। সারা দিনের এই অনুষ্ঠানে ছিল সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রাক্তনী সংসদের স্মারকগ্রন্থ ‘স্মরণিকা’-র প্রকাশ, আলোকচিত্র পর্ব এবং মঞ্চ থেকে পরিবেশিত সঙ্গীতের তালে উপস্থিত প্রাক্তনীদের স্বতঃস্ফূর্ত নৃত্য। এই মহামিলন বিশ্ববিদ্যালয় ও তার প্রাক্তনী সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
প্রাক্তনীদের বিপুল উপস্থিতি, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অভূতপূর্ব উৎসাহে ‘সাগরে ফেরা’ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

