আমাদের ভারত, ৩১ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিকী ইমপিচমেন্ট কর্মসূচিকে রাজনৈতিক নাটক বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি সাংসদ সমিত পাত্র। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী জোট এবং কংগ্রেসের আনা ভোট চুরির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলির এই ধরনের কর্মসূচির নামে দেশের সংসদীয়ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপহাসে পরিণত করছে।
সম্বিত তোপ দেগে বলেন, কংগ্রেস এখন যে নাটক মঞ্চস্থ করছে, প্রতিকী সংসদ আসলে দেশের সংসদ এবং সংবিধান কাঠামোকে অপমান করছে। বিরোধীদের তোলা ১৩.২ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিজেপির মুখপাত্র নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন এস আই এর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেন।
তিনি জানান, এ এস ডি ডি অ্যাবসেন্ট, শিফটেড, ডেথ ডুবলিকেট, সূত্রের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। বিজেপি সংসদ স্পষ্ট করে বলেন এ হলো অ্যাপসেন্ট বা অনুপস্থিত। বুথ লেভেল অফিসাররা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনবার সমীক্ষা চালান। যদি পরপর তিনবারই কাউকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় না পাওয়া যায় তবেই তাকে অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একইভাবে যেসব মানুষ স্থায়ী ভাবে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে বা যাদের নাম দু’বার উঠে এসেছে কেবল তাদেরই নাম নিয়ম মেনে সংশোধন করা হচ্ছে।
বিরোধীদের ভোট চুরি মন্তব্যের পাল্টা জবাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে সরাসরি আক্রমণ করে সম্বিত পাত্র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতে যদি সত্যিই কোনদিন প্রথম ভোট চুরি হয়ে থাকে তবে তা করেছিলেন গান্ধী পরিবারের প্রথম সদস্য পন্ডিত জহরলাল নেহেরু। কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ নির্বাচনে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল বেশি সমর্থন পেয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। নেহেরু ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ দখল করেছিলেন। চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং সঠিক করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন এই বিজেপি নেতা।
বিরোধীদের কর্মসূচিতে মূলত নেতৃত্ব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, এই প্রতিকী কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায় এটা শুধু একটা প্রতিবাদ নয়, একটা সতর্কবার্তা।
প্রসঙ্গত, শনিবার দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পিপলস ইম্পিচমেন্টের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিরোধীরা, যা ছিল একটি প্রতিকী বা মক পার্লামেন্ট। যেখানে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মিরা কুমার স্পিকারে ভূমিকায় ছিলেন। এই ধরনের কর্মসূচি বিরল। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশে কাজ করেছে সিইসি। তিনি কেবল নিজের পদ থেকেই অপসারণের যোগ্য নন, তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চালিয়ে বিচার করা উচিত। দিল্লিতে মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।

