আমাদের ভারত, ৩১ অক্টোবর: এবার বাম আমলের অপরাধের ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গড়বেতা, ছোট আঙারিয়া থেকে বন্দুক নিয়ে কারা নন্দীগ্রামে গিয়েছিল তা বের করে আনবেন বলে সমস্বরে ঘোষণা করলেন তিনি। তাঁর দাবি, কেউ ছাড় পাবে না। পাশাপাশি তৃণমূল এবং সিপিএম মিশে একাকার হয়েগেছে বলেও দাবি করে তাঁর হুঁশিয়ারি, সব হিসেব নেওয়ার সময় এসেছে।
শনিবার গড়বেতায় গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচিতে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বাম আমলে হওয়া অপরাধের ফাইল খুলবো। গড়বেতাতে সিপিএম অফিস ছিল, সেখান থেকে যারা যারা বন্দুক নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটাতে গিয়েছিল সেই সব ফাইল ওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না। আমি এর আগে ওদের জবাব দিয়েছি। তপন শুকুর একসময় বলেছিল শুভেন্দু অধিকারী ঢুকলে পা ভাঙ্গবো। আমি তিন দিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপর দাঁড়িয়ে সভা করে গিয়েছিলাম।
তৃণমূল এবং সিপিএমকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এখন তো যাহা তৃণমূল তাহাই সিপিএম। দু’পক্ষ মিলেমিশে একাকার হয়ে আবার সেই নৈরাজ্যের দিন ফিরিয়ে আনতে চায়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ডাক্তার প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল মনে আছে? ভোটের দিন ২০২৪ এ। আমি বলে গেলাম প্রণত টুডুকে, ওই এফ আই আর- এর কপিটা আমাকে পাঠাবেন। আমি কটা অ্যারেস্ট হয়েছে আর হয়নি দেখব। যে কটা অ্যারেস্ট হয়নি প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাতে হবে। আমি ভুলিনি, যা করেছে এরা। কেশপুরেও একই জিনিস করেছে। আমাদের সব হিসেব নেওয়ার সময় এসেছে।
নির্বাচনের আগে আমি ফিরছিলাম পুরুলিয়া থেকে। চন্দ্রকোনা রোডে আক্রান্ত হই আমি। সারারাত থানায় বসেছিলাম। অনেকে আহত হয়েছিল, কাউকে ভুলে যাইনি আমি।
আসন্ন কলকাতা, হাওড়া পৌরসভা নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, আগামী দিনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভা নির্বাচনে দেখবেন মমতা তৃণমূল আর তাদের বন্ধু লাল পার্টি যারা ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকেও মানুষ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা যেখানে অত্যাচার করেছে সেই লোকেরা এখন জামা বদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছেন, কারণ আজ দিল্লিতে বেবি আর আন্টি দু’জনেরই ভাব হয়ে গিয়েছে। আন্টি মানে কে জানেন তো? একটাই আন্টি পিসি। সিপিএমের সর্বভারতীয় সম্পাদক এম এ বেবি। এদের এখন ভাব ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।

