স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, ১৬ নভেম্বর: উত্তর দিনাজপুর শহরের ভেতর দিয়ে বাস চালানোর দাবিতে নাগরিক কমিটির ডাকা বনধে মিশ্র সাড়া মিলল ডালখোলায়। জানা গিয়েছে, ডালখোলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রথমে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করলেও নতুন বাইপাস নির্মাণের পর যাত্রীবাহী বাসগুলি বাইপাস দিয়ে চলাচল শুরু করায় সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। অনেকটা দূরে বাস ধরতে যেতে হচ্ছিল যাত্রীদের। এর ফলে ডালখোলা বাইপাসে যাত্রী ওঠা নামার কারণে যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এছাড়াও শহরের মধ্য দিয়ে বাস চলাচল না করায় ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

দাবি ওঠে, বাইপাস দিয়ে নয় ডালখোলা শহরের ভেতর দিয়েই যাত্রীবাহী বাস চলাচলের। এই মর্মে ডেপুটেশনও দেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীদের দাবি মেনে ডালখোলা শহরের মধ্য দিয়েই পুনরায় চালু হয় যাত্রীবাহী সরকারি বাস পরিষেবা। সেই নির্দেশ জারি হওয়ার পর বেশ কিছুদিন শহরের মধ্যে দিয়ে বাস চলাচল করলেও অল্প দিনের মধ্যেই ফের শহরের মধ্যে দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরই প্রতিবাদে ডালখোলা নাগরিক কমিটি ১৬ নভেম্বর ব্যবসা বন্ধের ডাক দেয়। বনধের সমর্থনে রবিবার একটি মিছিল করেন নাগরিক কমিটির সদস্যরা। তবে বুধবারের সেই বনধে মিশ্র সাড়া পড়ল শহরজুড়ে। এদিন সকাল থেকেই শহরের দোকানপাট ছিল বন্ধ। সকাল থেকেই বনধ সফল করতে পথে নামেন বনধ সমর্থনকারীরা। এদিন সকাল থেকেই রাস্তায় দেখা যায় পুলিশ কর্মীদের।

নাগরিক কমিটির সদস্যদের দাবি, এদিনের বনধ সকাল থেকে সর্বাত্মক। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কও তাদের এই বনধকে সমর্থন জানিয়ে যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ রেখেছে বলে দাবি তাদের। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বনধেও এতটা প্রভাব পড়েনি শহর ডালখোলায়। রবিবার সকাল থেকে অল্প কিছু সংখ্যক রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস শহরের মধ্য দিয়ে চলাচল করলেও এখনও বেশিরভাগ বাস বাইপাস দিয়ে চলাচল করছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে এবার শহরের মধ্য দিয়ে বাস চালানোর দাবিতে নিজেদের দাবিতে অনড় নাগরিক কমিটির সদস্যরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
যদিও এই বনধ নিয়ে যথেষ্টই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডালখোলা পৌরসভার পৌরপতি স্বদেশ চন্দ্র সরকার।


