আমাদের ভারত, ১৬ নভেম্বর: বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর দিন জঙ্গলমহলে গিয়ে সভা করে ফেরার পথে হঠাৎই একটি আদিবাসী গ্রামে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে মানুষ তাকে ঘিরে ঘর জল কিছুই পাইনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। মমতা সেখানেও কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি বিজেপির। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদারের খোঁচা, মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে পালিয়ে বাঁচছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওই একই দিনে ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিও। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গতকাল জঙ্গলমহলে ছিলাম। রাস্তার যা অবস্থা দেখলাম, ১২ বছর হতে চলল একটি সরকার রয়েছে। তার পরেও যদি এই অবস্থা হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে জল পাইনি, বাড়ি পাইনি বলে বার বার লোক বলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচছেন। এটাই প্রমাণ করে রাজ্যের পরিস্থিতি কি।”
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না বলে রাজ্য সরকার বারবার যে অভিযোগ তুলেছে সে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “একদমই না রাজ্যের প্রতিটি মানুষ চোখের সামনে ক্যামেরায় দেখেছে কোটি কোটি টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কাছের লোকের বাড়ি থেকে বেরচ্ছে। অতএব এই সরকারের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে সব নেতৃত্ব যারা বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বসে রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই যে চোর সে বিষয় রাজ্যবাসীর কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই।”
একটি ফেসবুক পোস্টে বিজেপি রাজ্য সভাপতি লিখেছেন, “২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১০০ শতাংশ কাজ হয়েছে যা আগামী ১০০ বছরের কাজ করে দিয়েছেন বলে দাবি করতেন মমতা। কিন্তু জঙ্গলমহলের মানুষ বলেছেন তারা ঘর জল পায়নি। প্রশ্ন উঠেছে ১২ বছর ধরে তাহলে কোন কাজটা হয়েছে?”
সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, জঙ্গলমহল হাসছে মুখ্যমন্ত্রীর এই তথ্য কি তাহলে মিথ্যে? কেন্দ্র সব প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে করা অভিযোগকে “কমন বাণী” বলে কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত।
তিনি প্রশ্ন করেছেন ২০১৫ সালের জুন মাসের ২৫ তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এটা ২০২২ সাল, গত ৭-৮ বছর ধরে জঙ্গলমহলের মানুষগুলো ঘর পেল না কেন? নাকি নাম পরিবর্তন করে বাংলার আবাস যোজনার প্রচার করতে জঙ্গলমহলের মানুষগুলোর কথা মনে পড়েনি? ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রে কুড়ি হাজার টাকা করে কাট মানি নেওয়া হয়েছে। শৌচাগার বানানোর জন্য এক থেকে দুই হাজার কাটমানি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার।
১০০ দিনের টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে বলে বারবার অভিযোগ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলের কর্মী নেতা কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “মানুষকে একবার বলুন না আমার ভাইয়েরা পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাসাদ অট্টালিকা বানিয়েছেন। এখন কেন্দ্রকে হিসেব দেওয়া যাচ্ছে না তাই টাকা বন্ধ। চোরেদের জেলে ভরুন টাকা খরচের সঠিক হিসাব দিন। আমরা টাকা আদায়ের জন্য দিল্লিকে অনুরোধ করব।”
জঙ্গলমহলে আদিবাসী পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ২০২৪ এর মধ্যে সবাইকে জল দিয়ে দেওয়া হবে। সেই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সুকান্ত মজুমদারের দাবি, আসলে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০২৪ এর মধ্যে সকলের বাড়িতে পরিশ্রুত বানিয়ে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মোদী সরকার।কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে সেই খাতে আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেখান থেকেও জলের ট্যাপ কিনতে কাটমানি খাওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, কেন্দ্রের কাজে স্টিকার বসিয়ে নিজের বলে চালিয়ে ক্রেডিট কুড়িয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

