সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়, ৪ ফেব্রুয়ারি: বৃষ্টিতে ম্লান হয়ে গেল বাকুঁড়ার মোদক সমাজের বাৎসরিক গণেশ পূজার উৎসব। প্রতি বছর মাঘ মাসের বরদা চতুর্থী তিথিতে খুব ঘটা করে মোদক সমাজের কূলদেবতা সিদ্ধিদাতা গণেশের বার্ষিক পূজা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।এবছরও সমস্ত রকমের আয়োজন করা হলেও বাধ সেধেছে প্রকৃতি। ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। তা কখনও মুষলধারে তো কখনও ঝিরিঝিরি। প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে চৌদ্দ সের গুড়ের ঘট নিয়ে শোভাযাত্রাও বের হয়, কিন্তু শোভাযাত্রায় লোকসমাগম না হওয়ায় শোভাযাত্রার গরিমা ম্লান করে দেয়। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে উদ্যোক্তারা শোভাযাত্রা কোনো প্রকারে সম্পন্ন করে।শোভাযাত্রা শেষে বিশেষ পূজা পাঠ হোমযজ্ঞ হলেও অন্যান্য বারের মত ভক্ত সমাগম কম।

বাকুঁড়া শহরের নুনগোলা রোডে সুদৃশ্য গণেশ মন্দির আলোক মালায় সেজে উঠেছে। প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির সংস্কারে নতুন রূপ পেয়েছে। লোকশ্রুতি বেনারস থেকে একদল পরিব্রাজক সাধু রাজগ্ৰাম নদী ঘাটে উপস্থিত হয়।সেখানে খানিক বিশ্রামের পর তাদের সঙ্গে থাকা চার ফুট উচ্চতার কষ্টি পাথরের গণেশের মূর্তি তারা নদীর চরে রেখে চলে যায়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা ময়রা বা মোদকদের নজরে আনেন। তখন মোদকরা মূর্তিটি নিয়ে এসে নুনগোলা রোডে খড়ের চালা নির্মাণ করে পূজার্চনা শুরু করেন।পরবর্তী কালে খড়ের চালা সরিয়ে পাকা মন্দির তৈরী করা হয়। তারপর থেকে মোদক সমাজের উদ্যোগে মাঘ মাসের বরদা চতুর্থী তিথিতে ঘটা করে পূজা উৎসব শুরু হয়। প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে আজও এই দিনে মোদক বা ময়রার দোকানে ভিয়েন অর্থাৎ মিষ্টি তৈরির কাজ বন্ধ থাকে। এই দিন প্রতিটি মোদক পরিবারে নতুন উৎপাদিত গুড় ঘট ভর্তি করে পূজার্চনা হয়। আর এই দিন প্রতিটি মোদক পরিবারে ভাতের পাতে পুঁটি মাছ আবশ্যক। ভাতের পাতে পুঁটি মাছের বিষয়টি খোলসা করতে না পারলেও নতুন গুড়ের ঘট সম্পর্কে উদ্যোক্তারা জানান যে প্রাচীন কালে মিষ্টি তৈরীর প্রধান উপকরণ ছিল গুড়।বছরের প্রথম উৎপাদিত গুড় কূলদেবতা গণেশকে নিবেদন করে কাজ শুরু হোত এমনই ধারণা।

