সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ ডিসেম্বর: পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হাসপাতালের জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে গেল চিকিৎসাধীন খুনের আসামী। ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। পলাতক ওই বিচারাধীন আসামীর নাম মুক্তিপদ কুমার। তাঁর বাড়ি বলরামপুরের তিলাই গ্রামে। তিনি পেশায় হোমগার্ড ছিলেন। জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে চিকিৎসাধীন ওই আসামি নিখোঁজ হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের ওই বিভাগের কর্তব্যরত নার্স জানান, ওষুধ দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি শৌচাগারে যান। পরে ওই ব্যক্তি না বেরোনোয় সন্দেহ হয় কর্তৃপক্ষের। দরজা ভেঙ্গে দেখা যায় ওই ব্যক্তির শৌচাগারের জানালা ভাঙ্গা রয়েছে। ওই জানালা দিয়েই চিকিৎসাধীন আসামি পালিয়েছে বলে অনুমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ওই ঘটনার সময় ওয়ার্ডের বাইরে দুইজন পুলিশ কর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আর সেই কারণেই ওই ওয়ার্ডে নিযুক্ত পুলিশের নিরাপত্তারক্ষীর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়ায়। এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পুলিশ।

যদিও ঘটনার কথা স্বীকার করে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যক্ষ ডা: সুকোমল বিষয়ী জানান, আমরা পুরুলিয়া সদর থানায় জানিয়েছি। তা ছাড়া ওখানে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। যা করার পুলিশই করবে।

প্রসঙ্গত, বলরামপুরের তিলাই গ্রামে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট রাতে স্থানীয় বাসিন্দা দয়াল রাজোয়াড়ের দেহ স্থানীয় ক্লাবের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। তার দুই দিনের মাথায় ওই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মুক্তিপদ কুমারকে গ্রেফতার করে বলরামপুর থানার পুলিশ। পুরুলিয়া জেলা আদালতের বিচারকের নির্দেশে ওই ব্যক্তি জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন।

