পুরুলিয়ার ‘শিকারা পয়েন্ট’ বিদ্যুৎহীন, ক্ষোভ পর্যটকদের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ ডিসেম্বর: বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে পুরুলিয়ার পর্যটন মানচিত্রের অন্যতম আকর্ষণ শিকারা পয়েন্ট। দীর্ঘ তিন বছরের বকেয়া পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল না দেওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দফতর। আর এর ফলে অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে গর্বের এই শিকারা পয়েন্ট সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা আসছেন আর নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে পুরসভা এই ব্যাপারে উদ্যোগী হোক।

২০১৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান শামিম দাদ খানের উদ্যোগে কাশ্মীরের ডাল লেকের একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরুলিয়ায় শিকারা ভ্রমণের ব্যবস্থা করেন। তার পরই তিনটি শিকারা সাহেব বাঁধের জলে বাণিজ্যিক ভাবে ভেসে বেড়াতে শুরু করে। আকর্ষণ বাড়ে জেলার পর্যটনে। স্থানীয় একটি সংস্থার সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি করে পুরসভা। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয় পুরুলিয়া পুরসভার উপ পৌরপ্রধানের নামে। অথচ, বকেয়া থাকে বিদ্যুৎ বিল। ১ লক্ষ ২২ হাজার ২৮ টাকা।

শীতের মরশুমে শিকারা বিহার থেকে শুরু করে মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে থাকেন সাধারণ মানুষ। ঠিক ভরা মরশুমেই এই শিকারা পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে পর্যটন ব্যবসায়। ক্ষতির মুখে শিকারা পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শহর বিজেপি নেতৃত্ব। শহরের অন্যতম পর্যটন স্থলের বিদ্যুৎ বাকি কেন? উঠছে প্রশ্ন। আগামীদিনে আবার কবে শিকারা পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়, কবে ঘুরে দাঁড়াবে এই স্থান?

নয় দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দফতর। বিষয়টি পুরসভায় জানান শিকারা পয়েন্টের ভারপ্রাপ্ত অশোক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, বিকেল হলেই আলোকিত হয়ে যেত এই স্থান। পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের আকৃষ্ট করতো ওই বাতির আলো। নৌ বিহার করতেন সন্ধ্যে পর্যন্ত। এখন অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ভরা মরসুমেও বিকেলের পর পর্যটক এসে ফিরে যাচ্ছেন।

কলকাতা থেকে বেড়াতে আসা এমনই হতাশ পর্যটক শাকিল আহম্মেদ বলেন, জনপ্রিয় এই স্থানের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভাবতেই পারছি না। বিকেলে সপরিবারে কলকাতা থেকে শিকারা পয়েন্টে ভ্রমণের জন্য আসা আলিফা খাতুন বলেন, আমাদের এখানে আসাটাই বৃথা গেল।

এই বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, ‘আমরা কাগজ পত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *