Fire, Tarapith, তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, মৃ*ত ৯

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৭ আগস্ট: বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের ফলে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো তারাপীঠ হোটেলের নয়জন আবাসিকের। মৃতদের মধ্যে দুই জন নাবালক ও এক মহিলা রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুটি পরিবারের পাঁচ জন মেঘালয়ের বাসিন্দা। এই ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তারাপীঠ থানা লাগোয়া একটি হোটেলে। ওই হোটেলের নিচের তলায় প্রথমে আগুন লাগে বালে আবাসিকদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিচের তলায় আবাসিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা হোটেল থেকে ছয়জনের মৃতদেহ বের করে নিয়ে আসে। তিনজনের মৃত্যু হয় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

মেঘালয়ের শিববাড়ি বাগানারা, সাউথগড়হিল থেকে তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিলেন রাজেন্দ্রনাথ শর্মা। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আশানাথ এবং আট বছরের ছেলে আউসনাথ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। একই পাড়ার বাসিন্দা বরুণ মদক তাঁর ১০ বছরের ছেলে শিবরাজকে নিয়ে এসেছিলেন তারাপীঠে। উঠেছিলেন সেই অভিশপ্ত হোটেলে। বাবা ও ছেলে দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে।আলিপুরদুয়ার থেকে এসেছিলেন কমল রায়, অমিত পাল, সুবীর সাহা, রাকেস শর্মা। চারজনেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।

হোটেল মালিকের ছেলে কল্যানাশিস পাল বলেন, “এসির একটি এনসিপি থেকে আগুন লেগে সেটা ধ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে থানা এবং দমকল কেন্দ্রে খবর দেওয়া হয়। দমকল আসার আগেই নিজেদের অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস দিয়ে, জল ছড়িয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সম্ভব হয়নি। দমকলের গাড়ি কিছুটা দেরিতে আসায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। তাছাড়া কালো ধোঁয়ায় সব ঢেকে যাওয়ায় আবাসিকরা সহজে রাস্তা খুঁজে পাননি।”

মেঘালয়ের মৃত পরিবারের আত্মীয় ঝর্ণা দে বলেন, “পরিবারের পাঁচ জন মারা গিয়েছে। আমিও অসুস্থ হয়েছিলাম। এখন ভালো আছি। পরিবারে খবর দেওয়া হয়েছে। রাতেই তারা পৌঁছে যাবেন।”

হোটেলের আবাসিক মুনমুন মণ্ডল বলেন, “মানসিক ছিল তাই উত্তর ২৪ পরগণার বাদুরিয়া থেকে সপরিবারে পুজো দিতে এসেছিলাম। ভোরের দিকে ধোঁয়া এবং গন্ধ পেয়ে উঠে দেখি আগুন। কোনক্রমে মা ও দুই বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়ে যাই। মা এখন হাসপাতালে। বাচ্চারা আমার সঙ্গে আছে। বাকিরা কোথায় বলতে পারব না।”

দমকল আধিকারিক নিলাদ্রী মজুমদার বলেন, “এদের সিঁড়ি দুটো ছিল। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ঠিক ছিল। আমাদের জল কমে গেলে আমরা তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।

তারাপীঠ লজ মালিক সমিতির পক্ষে জয়ন্ত রায় বলেন, “শর্ট সার্কিট থেকে ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা দুঃখ জনক। তবে কিভাবে এই ঘটনা ঘটল প্রশাসন তদন্ত করছে। তবে একটা সিঁড়িতে তালা দেওয়া থাকায় মানুষ নামতে পারেনি। এরজন্য হোটেলের কর্মচারীদের গাফিলতি রয়েছে। অনেক আবাসিক পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন রক্ষা করেছে।”

রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “লজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে। তবে তারাপীঠ জতুগৃহের মতো রয়েছে। অধিকাংশ হোটেলের কোনো পরিকাঠাম নেই। হোটেল চালাতে গেলে সমস্ত পরিকাঠামো ঠিকঠাক রাখতে হবে। এই ঘটনা দুঃখজনক। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *