পার্থ খাড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ অক্টোবর: খড়্গপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জল্পনা ও উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা চলছে, ঠিক সেই সময়েই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল খড়্গপুর পৌরসভা চত্বর। সোমবার সকাল থেকেই পৌরসভার মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শহরের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, কল্যাণী ঘোষ কিংবা প্রদীপ সরকার— এই দু’জনের কেউ নন, বরং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন কোনও ব্যক্তিকে পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিতে হবে।

এদিন পৌরসভার বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকেই নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন বা তাঁকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আর সেই বৈঠকের দিনেই পৌরসভার গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ গেটের সামনে অবস্থান করে নিজেদের দাবি জানাতে থাকেন। এর জেরে পৌরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং নির্ধারিত বৈঠক ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
চেয়ারম্যান পদে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তির দাবিতে বিক্ষোভ—
বিক্ষোভকারী বাসিন্দাদের বক্তব্য, খড়্গপুর পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এমন একজনকে বসানো হোক, যাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ এবং যাঁর উপর সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারবেন। তাঁদের দাবি, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

কল্যাণী ঘোষ ও প্রদীপ সরকারকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদের জল্পনার মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
পৌরসভার গেটে তালা, পুলিশের সঙ্গে বচসা—
সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা পৌরসভার মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করেন। একের পর এক বিক্ষোভকারী গেটের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান চালিয়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ।
অবরোধ সরিয়ে পৌরসভার গেট খুলে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু দাবি আদায়ে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা। এই নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অবরোধ সরানোর উদ্যোগ নেয় এবং বলপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। এর ফলে পৌরসভা চত্বরের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
প্রদীপ সরকারপন্থী কাউন্সিলরদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ— বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় প্রদীপ সরকারপন্থী কাউন্সিলরদের গাড়ি ঘিরে হামলা ও ভাঙ্গচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন ওই কাউন্সিলরদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। গাড়িতে ডিম ও টমেটো ছোড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে হামলার সূত্রপাত হয়েছিল এবং গাড়ির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এই অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে পৌরসভার গেটে অবরোধ, অন্যদিকে কাউন্সিলরদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগ— সব মিলিয়ে এদিন খড়্গপুর পৌরসভা চত্বর কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন—
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশকে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পৌরসভার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোও পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চেয়ারম্যান পদ ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা যে শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে, এদিনের ঘটনায় তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নজর এখন নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিকে—
খড়্গপুর পৌরসভার পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে এখন শহরজুড়ে কৌতূহল। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিনেই যেভাবে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই পদকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিকেই পৌরসভার শীর্ষ পদে বসাতে হবে। অন্যদিকে, কাউন্সিলরদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা ঘটনাটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এই উত্তেজনার কী পরিণতি হয়, এখন সেটাই দেখার।

