আমাদের ভারত, ১৩ অক্টোবর: গত ১১ অক্টোবর, দেবীপক্ষের সূচনায়; নববস্ত্র প্রদান ও সহভোজের আয়োজন করা হলো দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ডের কার্মাটাঁড়ে। জনজাতি সম্প্রদায়ের মাতৃশক্তিদের নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাড়ি ‘নন্দনকানন’-এ, যেখানে তিনি জীবনের শেষ ১৮টি বছর কাটিয়েছিলেন; মূলত সেখানেই হলো এই অনুষ্ঠান। ১০০ জন মাতৃশক্তির হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয় এদিনের কর্মসূচিতে।
অনুষ্ঠানের প্রধান ছিলেন উদ্যোক্তা রাষ্ট্রবাদী লেখক সৈকত চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, আমরা দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির -এর পক্ষ থেকে মঠ- মন্দির- আশ্রমে সারাবছরই সেবাকাজ করি। আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কার্মাটাঁড়ের বাড়িতে এসে, তাঁর স্মৃতি বিজড়িত সামগ্রী দর্শন করে; তাঁর আবক্ষ মূর্তির সামনে এই সেবাকাজ করতে পারায় আমরা ধন্য।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা কমিটি’র সভাপতি ও বিদ্যাসাগর গবেষক দেবাশীষ মিশ্র ও সম্পাদক চন্দন মুখার্জি, অধ্যাপিকা বিউটি কর্মকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী পত্রিকা ‘স্বদেশি বার্তা’র তরফে সৌরভ ভাদুড়ি, অবিনাশ মুখার্জি, সায়ন্তিকা বসু, দেবদীপ দে প্রমুখ।
পাঁচশো টাকায় স্থানীয় এক ইংরেজ মহিলার কাছ থেকে আমবাগান সমেত প্রায় ১৪ বিঘা জায়গা কেনেন যেখানে এই ছোট বাড়ি নন্দনকানন তৈরি করেন বিদ্যাসাগর। রাতের স্কুল চালানোর জন্য মাঝখানে একটি হলঘর, একপাশে শোবার ঘর, অন্যপাশে পড়ার ঘর। বাড়িতে ঢোকার ডান দিকে নিজের হাতে লাগিয়েছিলেন একটি কিষাণভোগ আমগাছ এবং একটি ভাগলপুরি ল্যাংড়া আমগাছ। এই কার্মাটাঁড়ে বসেই তিনি ‘সীতার বনবাস’, ‘বর্ণপরিচয়’- এর তৃতীয় সংস্করণের প্রুফ দেখেছেন।
এই অনুষ্ঠান নিয়ে দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির- এর সম্পাদক মিলন খামারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, আমরা পশ্চিমবঙ্গ তথা অন্যান্য রাজ্যের মানুষের জন্যও সেবাকাজ করছি। ইতিপূর্বে ওড়িশার দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছি। সবার ঐকান্তিক ইচ্ছেই দেশের প্রতিটি প্রান্তে আমরা এই সেবাকাজ করে যেতে চাই।মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

