আমাদের ভারত, ১৩ অক্টোবর: পরিকল্পনা করে ভোট চুরি হয়েছে এই অভিযোগ ঘিরে বিরাট আন্দোলন চলছে দেশের রাজধানী সহ একাধিক শহরে। কিন্তু বিরোধীদের এই নিত্যদিনের আন্দোলনের বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ল না ভোটের ফলাফলে। রাহুল গান্ধী দাবি করছেন, দেশজুড়ে মোদী বিরোধী হাওয়া বইছে। কিন্তু কোথায় কী? গুজরাটের পুরভোটের ফলাফলে অন্তত এইসবের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গুজরাটের পুরসভা ভোটের নির্বাচনে মোদী বিরোধী কোনো হাওয়া প্রভাব ফেলল না। একছত্রভাবে জিতেছে বিজেপি। কংগ্রেস জোটে কিঞ্চিত আসন বাড়ালেও জয়ের ব্যবধান বিরাট।
দিন দুই আগে গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগর সহ তিন পুরসভার নির্বাচন হয়েছে। তিন পুরসভাই, প্রত্যাশিতভাবে বিজেপির দখলে গিয়েছে। গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪ আসনের মধ্যে ৩৮ আসন দখল করেছে গেরুয়া শিবির। কংগ্রেস জিতেছে মাত্র পাঁচটি আসনে। অবশ্যই ২০২১ সালের তুলনায় দুটি আসন বেড়েছে হাত- শিবিরের। পাঁচ বছর আগে গান্ধীনগরের ৪৪ আসনের মধ্যে ৪১টি জিতেছিল বিজেপি। কংগ্রেস দুটি, আপ একটি আসনে জিতেছিল। এবার খাতা খুলতে পারেনি আপ। একটি আসনে জিতেছে নির্দল।
পুরসভাতেও এই একই ধরনের দাপট দেখা গেছে। পদ্ম শিবিরে ২৪ আসনের মধ্যে ১৯ গেরুয়া শিবিরের দখলে। কংগ্রেস জিতেছে বাকি পাঁচটিতে। ২০২১ সালে পুরসভা বিজেপির দখলে গিয়েছিল।
ওকড়া পুরসভার ৩৬ আসনের মধ্যে ৩৩টি জিতেছে বিজেপি। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে তিনটি। ২০২১ সালেও এই পৌরসভায় বিজেপি জিতেছিল ৩৪ আসনে। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল দুটি আসন, অর্থাৎ পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এত আন্দোলন প্রতিবাদের পরও নামমাত্র আসন বৃদ্ধি ছাড়া কাজের কিছুই করতে পারেনি কংগ্রেস। এর আগে হিমাচল প্রদেশ পাঞ্জাবের পুরোভোটেও ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, রাহুলের এত আন্দোলন, এত বিক্ষোভ আদৌ কি কংগ্রেসের কোন কাজে লাগছে? যদিও হাত শিবির বলছে পুরসভা নির্বাচনের ফলে এত গুরুত্ব দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার দরুন উপ নির্বাচনে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পাবে সেটাই স্বাভাবিক।

