আমাদের ভারত, নৈহাটি, ১৩ অক্টোবর: বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম রচনার ১৫০ বছরের সাড়ম্বরে উদ্যাপনের ও রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত বন্দেমাতরম গান গাওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে আগেই। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করে রাজ্যের অধিনস্থ নৌহাটির বিখ্যাত বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ১৩ অক্টোবর সকালে সশরীরে এসে ঋষি বঙ্কিমের স্মৃতি বিজড়িত বঙ্কিম ভবনের অধিকর্তা হিসেবে যোগ দিলেন ড. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিসেবে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এতদিন এই অধিকর্তার অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের যুগ্মসচিব পার্থ ঘোষ। উনি সশরীরে আজ নৈহাটির ঐতিহ্যমণ্ডিত বঙ্কিম ভবনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ড. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথেই বঙ্কিম ভবনের কর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন। ভবনের ঐতিহ্য রক্ষায় ও বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত এই ভবনের উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছেন। ছাত্র- ছাত্রী, গবেষক ও পর্যটকদের কাছে এই ভবনের আকর্ষণ কিভাবে বাড়ানো যায় এবং এই ভবনকে কিভাবে আরো উন্নত পরিকাঠামোযুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেই বিষয়ে তিনি অতি শীঘ্র উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। বঙ্কিম ভবনের যে মূল্যবান পুঁথি, দুষ্প্রাপ্য দলিল ইত্যাদি যাতে ডিজিটাইজ করা যায়, গবেষণার কাজে আরো বেশি বেশি ব্যবহার করা যায় সেই বিষয়ে উদ্যোগী হবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে যে সরকারি অবহেলা নৈহাটি এই বঙ্কিম ভবনের প্রতি করা হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি আজ বঙ্কিম ভবনে এসে ব্যক্ত করেছেন।
সারা ভারতে জাতীয় সঙ্গীত বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতরম নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে ও ভারত সরকার বন্দেমাতরমের পুরো স্তবক গাওয়া বিষয়ে সংসদে আইন প্রণয়ন করেছে আগেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বঙ্কিমচন্দ্র ও বন্দে মাতরম নিয়ে যে নতুন চর্চা শুরু করেছে, সেই সন্ধিক্ষণে অধিকর্তা হিসেবে ড. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায়- এর কাছে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বঙ্কিম ভবনের দায়িত্ব নেওয়া নিঃসন্দেহে এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
ড. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই নিয়োগকে অত্যন্ত সন্মানের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি এই ভবনের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং, নৈহাটির বিধায়ক ও বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধর সুমিত্র চ্যাটার্জি; শিক্ষাবিদ, সংগ্রহশালা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, জেলাশাসক থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসক, জন প্রতিনিধি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

