মহিষাদল রাজ হাইস্কুলে নতুন ক্লাসে ভর্তির সময় অতিরিক্ত টাকা চাওয়ায় বিজেপির বিক্ষোভ ও ডেপুটেশনকে ঘিরে উত্তেজনা

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ জানুয়ারি: মহিষাদল রাজ হাইস্কুল বহু পুরানো এবং বহু ঘটনার সাক্ষী লাল বাড়ি। স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশ চন্দ্র সামন্ত, সুশীল ধাড়া, গোপীনন্দন গোস্বামী, হিন্দি করি নীরালার মতো গুনি ব্যক্তিরা রাজ হাই স্কুলের এই বাড়িতে ক্লাস করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি।

সম্প্রতি স্থানীয় বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতি ও স্কুল কমিটি উদ্যোগ নিয়ে লাল বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। সর্বস্তরের মানুষের সাহায্য ও সহোযোগিতায় স্কুলটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। স্কুলের বর্তমান ছাত্রদের কাছ থেকে নতুন ক্লাসে ভর্তির সময় লাল বাড়ি সংস্কারের জন্য পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা এবং উঁচু ক্লাসের ছাত্রের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। কেন ছাত্রদের কাছ থেকে এই মহামারির সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে আজ স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি যুব মোর্চার মহিষাদল শাখার প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, জোর করে ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। এছাড়াও একাধিক অভিযোগ তুলে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয় বিজেপির যুব মোর্চার পক্ষ থেকে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার তুং জানান, সকলের সাহায্য ও সহোযোগিতা নিয়ে আমরা প্রাচীন স্কুল বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। সেখানে বর্তমান ছাত্রদের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এই নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল যদি প্রদিবাদ জানায় তাহলে এলাকার উন্নয়ন ঘটবে কি ভাবে।

স্থানীয় বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী জানান, মহিষাদলের প্রাচীন স্কুল সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমি আমার বিধায়ক তহবিল থেকে যেমন অর্থ দেবো তেমনি অন্যান্য শুভানুধ্যায়ী মানুষ স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রদের সাহায্যে প্রাচীন ভগ্নপ্রায় স্কুলবাড়ি সংস্কার করা হবে। বিজেপি শুধু বিরোধীতা করতে জানে। কাজ করতে জানে না। তাই এই ধরনের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিজেপি নেতা তথা অভিভাবক রামকৃষ্ণ দাস বলেন, সাধারণ মানুষের টাকায় যদি সংস্কার হবে তাহলে বিধায়কের নাম উজ্জ্বল করে তোলার কি আছে? আমরা চাই সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সংস্কারের কাজ হোক। যারা টাকা দিতে চায় তাদের টাকা নেওয়া হোক জোর করে টাকা নেওয়া যাবে না। আজ বিজেপির এই বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *