প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৭ নভেম্বর: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। রবিবার সকাল ৭.৩০ নাগাদ বুকে ব্যথা নিয়ে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জগদ্দল কলাবাগান ২৩ নম্বর গলির বাসিন্দা ৩২ বছরের ঝুনঝুন সাউ। জগদ্দল জেজেআই জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন মৃত ঝুঁঝুন সাউ। বুকে প্রবল ব্যাথা নিয়ে ঝুনঝুন সাউকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা তাকে একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে বিশ্রাম করতে বলে টিফিন খেতে চলে যায়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ওই ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর ঝুনঝুন সাউয়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। সেই সময় ডাক্তারকে ডাকা হলে তিনি টিফিন খেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বাদে রোগীকে দেখতে আসেন। তখন চিকিৎসক জানান যে, রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এই খবর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা।

রোগীর আত্মীয়দের আরও অভিযোগ, সেই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর প্রেসক্রিপশন তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। আর ওই রোগীকে যে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল সেই ইঞ্জেকশনের নাম কাটার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মৃতের আত্মীয়রা ওই চিকিৎসককে বাধা দেন, আর তখন গণ্ডগোল বেঁধে যায়। ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় ঝুনঝুনের মৃত্যু হয়েছে বলেই দাবি করেন তার আত্মীয়রা। মৃত্যুর পর হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় মৃতের পরিবার। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙ্গচুর করার অভিযোগ উঠেছে মৃতের পরিবার পরজনদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন ভাটপাড়া পৌরসভার পুর প্রশাসক গোপাল রাউত। তিনি এসে সমস্ত বিষয় জেনে ঘটনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে এই তপ্ত পরিস্থিতির সামাল দিতে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আসে জগদ্দল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এদিন মৃত ঝুনঝুন সাউয়ের আত্মীয়দের বক্তব্য, “সঠিক চিকিৎসা না করায় আর ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার ফলে ঝুনঝুন সাউয়ের মৃত্যু হয়েছে। তার ২ টো ছোট ছোট সন্তান আছে এবার তাদের কি হবে। আমরা এর একটা বিধান চাইছি।”

