হিজাব ইসলাম ধর্মের প্রতীক, নারী বিদ্বেষের প্রতীক, কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কে মন্তব্য তসলিমার

আমাদের ভারত, ৮ ফেব্রুয়ারি: কর্নাটকের উদুপি কলেজে ছাত্রীদের হিজাব পরে আসা বন্ধ করার নির্দেশের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। হিজাব পরে আসা নিয়ে মুসলিম ছাত্রীদের দাবি, নিজের ইচ্ছায় পোশাক পরা ও ধর্মাচরণ করা তাদের মৌলিক অধিকার। হিজাবে নিষেধাজ্ঞা ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবনাকে ক্ষুন্ন করছে। কিন্তু এই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, হিজাব কখনই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক নয় বরং হিজাব ইসলামের ধর্মের ধর্মীয় প্রতীক।

হিজাব বিতর্কে উত্তাল কর্ণাটক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনদিনের জন্য দক্ষিণের এই রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার এই হিজাব বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, “কেউ কেউ মনে করেন হিজাব মানে ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু না হিজাব ইসলামের ধর্মীয় প্রতীক। নারীকে পর্দার আড়ালে রাখার একটি কৌশল হিজাব।” তাসলিমা দাবি করেছেন, হিজাব আসলে নারী বিদ্বেষের প্রতীক। তাঁর মতে, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ তৈরি করতে সব ধরনের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করতে হবে।

কর্নাটকের উদুপির কলেজের ছাত্রীদের হিজাব পরে আসার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। একদল ছাত্র জানায় মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে কলেজে এলে তারাও গেরুয়া পাগড়ী, উত্তরীয় পরে কলেজে আসবে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফে হিজাব পরে আসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বলা হয়, কলেজের নির্দিষ্ট করা পোশাক পরেই সব ছাত্র ছাত্রীকে আসতে হবে। এই নির্দেশ রাজ্যের আরও বেশ কিছু স্কুল কলেজও জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরব হয় মুসলিম ছাত্রীরা। তাদের দাবি, হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকার ও একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে তাদের হিজাব পরার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা সমীচিন নয়। তাঁরা এই বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়েছে। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জারি করা পোশাক পরেই পড়ুয়াদের আসা উচিত। এমন কোনো পোশাক পরা উচিত নয় যাতে পড়াশোনার পরিবেশ প্রভাবিত হয় কোনোভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *