জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি: মেদিনীপুর শহরের বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা নির্মাল্য চক্রবর্তী তার স্ত্রী সোনালী চক্রবর্তীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে সরিয়ে নিলেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে নির্মাল্যবাবু ঘোষণা করেন, প্রথম বারের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম থাকায় প্রচারে নেমেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে জানার পরই আমরা লড়াই থেকে সরে আসি। দলের তরফেও দ্বিতীয় তালিকায় ঘোষিত প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাই দলের নির্দেশ মতই চলব।
যদিও তাঁর এই রণে ভঙ্গ দেওয়াকে দলের মধ্যে কোনঠাসা হয়ে যাওয়ার কারণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছিল প্রথম তালিকা ঘোষণার ২ ঘন্টা পর। তারও ৮ ঘন্টা পরে সকাল বেলায় নির্মাল্য চক্রবর্তীর স্ত্রী সোনালীর নামে দেওয়াল লেখা শুরু করেছিল তাঁর অনুগামীরা। ক্ষুব্ধ নির্মাল্য অনুগামীরা জানিয়েছিল, ২ নম্বর ওয়ার্ড দাদার (নির্মাল্য) ওয়ার্ড। এখানে বৌদি লড়াই করবেনই। শেষ অবধি দল যদি টিকিট দেয় ভালো না হলে অন্য প্রতীকে লড়াই হবে। দরকার হলে নির্দল হয়ে লড়াই করে জয়ী হয়ে দলকেই সমর্থন জানানো হবে। লড়াই থেকে পিছু হটার কোনও প্রশ্ন নেই।

কিন্তু শেষ অবধি ঝুঁকি নিতে সাহস পেলেন না নির্মাল্য। ঘটনা হচ্ছে নির্মাল্য এই ওয়ার্ডের দাবিদার ছিলেন। এই ওয়ার্ডে তাঁর মা প্রয়াত দেবী চক্রবর্তী ও তিনি দীর্ঘদিন কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তী কালে মেদিনীপুর বিধানসভা নির্বাচনেও বিধায়ক প্রার্থীপদের দাবিদার হয়ে ওঠেন। কিন্তু দলের মধ্যে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতে টিম পিকের পরামর্শে জুন মালিয়াকে প্রার্থী করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট নির্মাল্য এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। তবে টিম পিকের পক্ষে তাঁকে বা তাঁর স্ত্রীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর জুন মালিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তাঁর হয়ে পর্যাপ্ত প্রচার করেননি নির্মাল্য। জুন মালিয়া জয়ী হন এবং তাঁর অভিযোগ মেনে নেয় দল। এর পরেই দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন নির্মাল্য। রাশ চলে যায় জুন মালিয়ার হাতে। পুর প্রশাসক মন্ডলী থেকেও নির্মাল্যকে সরে যেতে হয়। যদিও টিম পিকে কথা রাখে এবং নির্মাল্যর স্ত্রী সোনালীর নাম সুপারিশ করে। প্রথম তালিকায় সেই নাম বেরিয়েও যায়। কিন্তু তারপরই ফোন যায় মেদিনীপুর থেকে। বিধানসভা নির্বাচনে অসহযোগিতার বিষয়টি অবগত করানো হয় রাজ্য নেতৃত্বকে। বাদ পড়েন নির্মাল্যর স্ত্রী সোনালী। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন এই বিদ্রোহের পর তৃণমূল থেকেই সরে যেতে হতে পারে। অবশেষে রণে ভঙ্গ দেন অভিষেক ঘনিষ্ট এই নেতা। শুরু করেন দেওয়াল লেখা ও মোছার কাজ।

