নকশালদের সঙ্গে তুলনা! নাম বদলে কংগ্রেসকে নতুন নাম রাখার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

আমাদের ভারত, ৮ ফেব্রুয়ারি: সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার সময়েও সেই ধারা বজায় রাখলেন তিনি। কংগ্রেসকে শহুরে নকশালদের সঙ্গে তুলনা করেন। কংগ্রেসের নাম বদলে ফেডারেশন অফ কংগ্রেস রাখা পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অভিযোগের সুরে মঙ্গলবার রাজ্যসভায় মোদী বলেন, কংগ্রেস না থাকলে জরুরি অবস্থা, দুর্নীতি, শিখ দাঙ্গা, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের রাজ্য ত্যাগ করার মতো ঘটনা ঘটত না। কংগ্রেস না থাকলে মেয়েরা সবাই নিরাপদে থাকত এবং দেশের মানুষ তার মৌলিক সুবিধা পেত। কংগ্রেসের মানসিকতার জন্য গত পঞ্চাশ বছর ধরে যারা কাজ করার সুযোগ পেয়েছে তাদের নীতির উপর বিকৃতির প্রভাব পড়েছে।

মোদী বলেন, ১৯৭৫ সালে যারা গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করেছিল তাদের গণতন্ত্রের উদারতার প্রশ্নে কথা বলায় মানায় না। মোদীর মন্তব্যে হই হট্টগোল শুরু হয় সংসদে। কিছুক্ষণ বক্তব্য থামান তিনি। কিন্তু এরপর ফের তোপ দাগেন মোদী।

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস পরিবর্তন করা কিংবা নতুন করে ইতিহাস লেখার অভিযোগ আনছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে মোদী বলেন, কংগ্রেস এখন শহুরে নকশালদের মত চিন্তা করে। কংগ্রেসের মনস্তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদী। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ইতিহাসের কোনও পরিবর্তন করছে না, বরং মানুষের স্মৃতিকে সতেজ করে তুলছে। ইতিহাস যেমনভাবে ছিল সেই পথেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গান্ধী পরিবারের নাম না করে কটাক্ষের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ ইতিহাস বলতে কেবল মাত্র একটি পরিবারকে বোঝেন। তার জন্য বিজেপি সরকার কি বা করতে পারে? কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রকে কটাক্ষ করেন তিনি বলেন, কংগ্রেসের সমস্যা হলো তারা একটি পরিবারের বাইরে বেরোতে পারেনি। এবিষয়ে মোদী পরামর্শ দেন, কংগ্রেসের নাম হওয়া উচিত ফেডারেশন অফ কংগ্রেস।

মোদীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণের বিরোধিতা করে কংগ্রেসের সাংসদরা রাজ্যসভা ত্যাগ করেন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভাষণ নিয়ে বলার পরিবর্তে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিলেন আর সেই কারণেই তারা বেরিয়ে এসেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *