আমাদের, বীরভূম, ১৯ অক্টোবর: শেষ মুহূর্তে সরকারি অনুদান। তাই এবারও ঘটে পুজো সারতে হলো বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের তলোয়া শান্তি কমিটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিকে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি মল্লারপুর থানার পক্ষ থেকে ওই পুজো কমিটিকে কিভাবে অনুদান দেওয়া হলো সেটার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বীরভূমের মল্লারপুর থানার তালোয়া গ্রাম। ওই গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের এক সময় জমিদারি ছিল। ফলে প্রায় পাঁচশো বছর ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুজো হয়ে আসছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জমিদারি ঠাট অধিগ্রহণ করায় পুজো চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অন্যদিকে বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রায় অর্ধশতবর্ষ ধরে পুজো চলে আসছে ঘটে। কিন্তু সেই ঘট পুজো চালানোর ক্ষমতা বিশ্বাস পরিবারের না থাকায় বছর পাঁচেক আগে গ্রামের শান্তি কমিটির হাতে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন বিশ্বাস পরিবারের অন্যতম সদস্য দুর্গাদাস বিশ্বাস। এরপরেই তলোয়া শান্তি কমিটি দায়িত্ব নিয়ে সর্বজনীন হিসাবে দুর্গাপুজো শুরু করেন। কিন্তু আর্থিক অভাবে ঘট পুজো করেই চালিয়ে আসছিলেন পাঁচ বছর ধরে। একাধিকবার সরকারি অনুদানের আবেদন করেও পাওয়া যায়নি। এবারও পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না। শেষ মুহূর্তে সরকারি অনুদান এক লক্ষ টাকা পেলেও তখন আর মূর্তি গড়ার সময় ছিল না।
শান্তি কমিটির সভাপতি সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “আর্থিক কারণে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনরকমে চাঁদা তুলে ঘট পুজো করে গ্রামের প্রাচীন পুজোকে টিকিয়ে রেখেছি। মূর্তি গড়ে পুজো করার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা আমাদের নেই। তাই মৃন্ময়ী প্রতিমার বদলে ঘটস্থাপনের মাধ্যমেই সমস্ত আচার- অনুষ্ঠান বজায় রেখে পুজো চালিয়ে আসছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সরকারি অনুদানের জন্য আমরা আবেদন করেছি। কিন্তু মেলেনি। তাই ঘট পুজো করেই গ্রামের পুজো টিকিয়ে রেখেছি। এবারও আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অনুদান পাব কিনা ভাবতে পারিনি। শেষ মুহূর্তে রাজ্য সরকারের দেওয়া এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান পেয়েছি। ফলে মূর্তি গড়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী বছর থেকে মূর্তি গড়েই পুজো করা হবে”।
দুর্গাদাস বিশ্বাস বলেন, “আমাদের অনেক দেবত্বর সম্পত্তি ছিল। সেখান থেকেই পুজোর খরচ জোগাড় হত। কিন্তু সরকার জমিদারি অধিগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেবত্বর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। পাশাপাশি আমাদের বংশের অনেকের ছেলেমেয়ে নেই। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সেই কারণে পাঁচ বছর আগে গ্রামের শান্তি কমিটির হাতে পুজোর দায়িত্ব তুলে দিয়েছি”।
মূর্তি গড়া না হলেও সরকারি নির্দেশিকা মেনে পুজোর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজো প্রাঙ্গণের ব্যানারে অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সহ- সভাপতি জয়শঙ্কর সিনহা। তিনি বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও আমাদের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নিলেও কোথাও একটা ভুল ভ্রান্তি হয়েছে। যার জন্য এই ধরনের পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরো কঠোরভাবে এগুলো বাছাই করে প্রকৃত যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকেই এই অনুদান দেওয়া হবে। প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছি।”

