আমাদের ভারত, নদীয়া, ২০ অক্টোবর: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এক আনন্দমুখর পরিবেশে শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটল নদিয়া জেলার প্রসিদ্ধ কল্যাণী আই টি আই মোড়ের ‘ব্যবসায়ী সমিতি’র পুজোতে। এ বছর ৩৪তম বর্ষে পদার্পণ করলো এই পুজো। সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় মুখরিত হলো দুর্গাপুজোর প্রাঙ্গণ।
গত ১৫ অক্টোবর- ২৬ সন্ধ্যায়, শুভ দুর্গা পঞ্চমীর পুণ্যলগ্নে; রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সংস্কার ভারতী (নদীয়া জেলা)’ এবং জনকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’- এর যৌথ পরিবেশনায় পূজা প্রাঙ্গণের সাংস্কৃতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির- এর সদস্যা সংঘমিত্রা মিশ্র। সঙ্গীত পরিবেশনায় সহযোগিতা করেন শিল্পী দেবস্মিতা মিশ্র, রানী ভাল্লা ও মনীষা ভাল্লা। বাচিক শিল্পী জয়িতা সান্যাল ও জয়তী ঘোষের আবৃত্তি অনুষ্ঠানে স্বতন্ত্র মাত্রা সংযোজন করে।
অন্যদিকে সংস্কার ভারতী নদীয়া জেলার নৃত্যপ্রমুখ অভিজিৎ গুপ্তের পরিচালনায় ‘ছন্দম্ নৃত্যগোষ্ঠী’র মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও সফল বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের সভাপতি ড. সুশান্ত মজুমদার, সম্পাদক মিলন খামারিয়া এবং সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও সদস্য অধ্যাপক (ড.) দিলীপ মিশ্র ও অধ্যাপক (ড.) বাসুদেব মুখার্জি। এছাড়াও সংস্কার ভারতী নদীয়া জেলার সভাপতি সুরজিৎ সাহা একান্ত সহযোগিতা করেছেন।
অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য পূজা পরিচালন সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবী তারকনাথ সরকার সংস্কার ভারতী ও দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও পূজা পরিচালন সমিতির সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
সম্পাদক মিলন খামারিয়া বলেন, সংস্কার ভারতী ও দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলো তা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশে দুটি সংগঠনই কাজ করে চলেছে। যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান আশাকরি দর্শকদের ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে এক সাথে আমরাও আরও কাজ করতে চাই।
সভাপতি সুশান্ত মজুমদার বলেন, কল্যাণী সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ নগর। আপাতত কিছু অপসংস্কৃতি কল্যাণীতে মাঝে মাঝে দেখতে পাচ্ছি।এখানে ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশ আরও বেশি বেশি করে প্রয়োজন। আমাদের সংগঠন সেই কাজই করছে।

