Suvendu, BJP, Digha, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দূতের সাথে কথা, দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বড় নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর

আমাদের ভারত, ৯ জুন: দিঘার জগন্নাথ দেবের মন্দির এবার থেকে আর জগন্নাথ ধাম হিসেবে পরিচিত থাকবে না। মঙ্গলবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির চিঠি নিয়ে দূত হয়ে এসেছিলেন বিজেপির পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে নিয়েছে বঙ্গের বিজেপি সরকার। ফলে এখন থেকে দিঘা মন্দির কমপ্লেক্সের নাম হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ সংস্কৃতিক কেন্দ্র।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন সকলে চান পুজো পাঠ হোক, কিন্তু ধাম শব্দ সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরপরে শুভেন্দু বলেন, বিতর্ক আগেই ছিল। প্রতিবেশী মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করে দিঘার ওই ক্যাম্পাস থেকে ধাম শব্দ সরিয়ে দিচ্ছি।

নতুন নাম কী হবে তাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পুরো কমপ্লেক্সের নাম হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ সংস্কৃতি কেন্দ্র। যেহেতু তাতেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন রয়েছে। হিডকোর টেন্ডারে রয়েছে। সরকারি অর্থে হয়েছে। যেখানে ঠাকুরের পুজো পাঠ হয় সেই স্থাপত্য মন্দিরের নামে পরিচিত হবে। শ্রী জগন্নাথ দেব মন্দির নামে পরিচিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দিঘার মন্দিরে পুজো পাঠ ভারতীয় সংস্কৃতি শাস্ত্রে জগন্নাথ দেবের পুজো পাঠের নিয়ম মেনে হবে। মন্দিরে সাত্বিকভাবে পুজো হবে। প্রসাদ হবে। পরিচালন কমিটির বিষয়েও জানিয়ে দেওয়া হবে। ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে।

দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি এবং প্রধান পুরোহিত রাধারমন দাস বলেন, আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এখন থেকে এই মন্দির দিঘা জগন্নাথ মন্দির নামে পরিচিত হবে।

কয়েকদিন আগে শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরের ইসকনের মন্দিরে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, সেখানে রাধারমন দাসের সঙ্গে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পুজোর দায়িত্বে রয়েছে ইসকন।

তারপরই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মন্দিরের নামে ধাম লেখা ঠিক হয়নি। কাগজপত্র দেখেছি কালচারাল সেন্টার হিসেবে গড়েছিল। দ্রুত ধাম শব্দ অপসারণ করব। সনাতন সংস্কৃতির যে অপমান আগের সরকার করেছে, এই সরকার তা করবে না।

অন্যদিকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দূত হিসেবে আসা সম্বিত পাত্র জানান, ২০২৫ সালে এপ্রিলে বাংলার তৎকালীন সরকার দিঘার মন্দির উদ্বোধন করেন, নাম দেন জগন্নাথ ধাম। প্রভুর যত মন্দির হয় ততই ভালো। হওয়া উচিত। মন্দির তৈরিকে স্বাগত জানিয়েছি। তারপরেই তিনি বলেন, সনাতনের পরম্পরা অনুসারে চারটি ধাম রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো জগন্নাথ ধাম। যা রয়েছে ওড়িশায়। যেখানে নারায়ণের নিবাস রয়েছে। আদি শঙ্করাচার্য চারটি ধামের স্থাপন করেছিলেন। তাই ২০২৫ সালে যখন দিঘা হলো তাতে শুধু সাড়ে চার কোটি ওড়িয়া বন্ধু নন, বাংলায় যারা জগন্নাথ দেবকে মানেন তাদেরও কষ্ট হয়েছিল। শুভেন্দু দাও প্রতিবাদ করেছিলেন, বলেছিলেন সনাতনের সঙ্গে এভাবে খেলা যায় না। এরপরে শুভেন্দু অধিকারীকে ওড়িশা মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সম্বিত পাত্র বলেন, নতুন সরকার সনাতনকে সম্মান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *