সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১০ জুন: আর এক ‘লক্ষ্মী’ ছেলের খোঁজ পাওয়া গেল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার” প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাতার টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সমীর দে-র বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের বাসিন্দা বিমল দাস শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তার অসহায়তার সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত সমীর দে বিমলের নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন বলে অভিযোগ। ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের টাকা জমা পড়ত। অভিযোগ, অ্যাকাউন্টের পাসবই নিজের কাছেই রাখতেন সমীর এবং নিয়মিত ব্যাঙ্কে গিয়ে তা আপডেট করতেন। অথচ বিমল দাস নিজেই জানতেন না যে তাঁর নামে সরকারি ভাতা আসছে। শুধু তাই নয়, আবাস যোজনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে বিমল দাসের নামে একটি আবাস যোজনার ঘর মঞ্জুর হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা তিনি পাননি বলে দাবি। ফলে বাড়ি নির্মাণের কাজ আজও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ওই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হন বহু বাসিন্দা। সমীর দে বাড়িতে না থাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় অশোকনগর থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের এক আত্মীয়কে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে সমীর দে-র কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন জেলায় পুরুষদের নামে ভাতা পাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সরকার উপভোক্তাদের পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই আবহেই অশোকনগরের এই অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে।

