সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১০ জুন: এবার বিদ্রোহ বাঁকুড়া পুরসভায়। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভায় পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনল উপ- পুরপ্রধান সহ তৃণমূলেরই ১৬ জন কাউন্সিলর। এই অনাস্থা প্রস্তাবে উপ পুরপ্রধান-সহ মোট ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর স্বাক্ষর করেছেন। এই ঘটনায় বাঁকুড়া জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে লিখিত ভাবে নিজেদের অনাস্থা জমা দেন এই কাউন্সিলাররা।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া পুরসভায় ২৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ২১ জন তৃণমূলের। পুরসভার বাকি ৩ নির্দল কাউন্সিলরের মধ্যে ২ জন পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন। এতদিন বাঁকুড়া পুরসভায় প্রধান পদে রয়েছেন অলকা সেন মজুমদার। এদিন তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন দলেরই কাউন্সিলররা।
এদিন পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দ্বারস্থ হন উপ পুরপ্রধান সহ তৃণমূলের ১৬ জন কাউন্সিলর। এই বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই পুরপ্রধান বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছেন।এমনকি পুরসভার গত বোর্ড মিটিংয়ে তিনি অন্যান্য কাউন্সিলরদেরও বিজেপির কথামতো এলাকায় কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।এটা মেনে নেওয়া যায় না।পুরপ্রধান অলকাদেবীর এক নায়কতন্ত্র ও বিজেপির সঙ্গে যোগসাজস তারা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
যদিও পুরপ্রধান অলকা দেবী অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তার বক্তব্য, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তবে এনিয়ে বাঁকুড়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। জেলা রাজনীতির ওয়াকিবহাল মহলের খবর, সাংসদ একদিকে অরূপ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, অপরদিকে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাসীন থাকার ফলে কোনো কাউন্সিলর অলকা দেবীর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি। রাজ্যে সরকার বদলের পরেই তাই এই অনাস্থা।
অন্যদিকে অরূপ চক্রবর্তী তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তাই সেই পথ ধরে অলকাদেবী চলবেন সেটাই স্বাভাবিক। তার ওপর রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। এদিকে পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে আজ একটু বেলার দিকে ১৬ জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করলেও বিকেলের দিকে তা প্রত্যাহার করে নেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। যদিও এর সত্যতা মেলেনি। এদিকে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে টাকার খেলা চলছে বলে শহর জুড়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

