সাফাই কর্মী দেন ইনজেকশন, নাইট গার্ড ওষুধ, এভাবেই চলছে শান্তিপুর সরকারি পশু চিকিৎসালয়

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১১ মে: নদিয়ার শান্তিপুর থানার মতিগঞ্জ মোড়ে নামেই রয়েছে সরকারি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র। অথচ নেই পশু চিকিৎসক। কোনওরকমে কম্পাউন্ডারের সাহায্যে চলছে সেই পশু চিকিৎসা কেন্দ্র।

প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবেসে যারা অবলা জীবদের লালন পালন করেন, সেই সব পশুপ্রেমী মানুষরা অসুস্থ পশুদের নিয়ে যান সেই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সেইসব অসুস্থ পশুরা পায় না ঠিকমতো চিকিৎসা। ফলে কারো দীর্ঘদিনের গরু বা প্রিয় কুকুরটি চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। পশুপ্রেমীদের অভিযোগ, পশুদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না চিকিৎসককে। কম্পাউন্ডার ও নাইটগার্ডেরা না বুঝেই পশুদের দিচ্ছেন ইঞ্জেকশন। এমনটাই অভিযোগ করছেন গবাদি পশু পালন করা কৃষকরা। প্রিয় পশুদের বাঁচানো যাচ্ছে না। বাড়ির পোষ্যদের নিয়ে এসে পাওয়া যায় না চিকিৎসা। কার্যত চিকিৎসার অভাবে পশুরা মারা যাচ্ছে। কাউকে বলে কোনও কাজ হচ্ছে না। তিন বছরের ওপরে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে পশুদের কোনও ডাক্তার নেই।

এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট কৃষ্ণচন্দ্র মৃধা। তিনি জানিয়েছেন,’ আমরা কি করব?এই চিকিৎসাকেন্দ্রের ডাক্তার রিটায়ার্ড করেছেন। নতুন কোনও ডাক্তারকে এখনো পোস্টিং দেওয়া হয়নি। তাই আমরা যেমন জানি সেই ভাবে চিকিৎসা করার চেষ্টা করছি। এর বেশি বলতে পারবো না।’

ওই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা ভালোমতো না হওয়ার কারণে নিজের পোষ্য কুকুরকে প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান কুকুরের মালিক মদনমোহন সালমা। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, ‘এটা কার্যত জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। এখানে কোনও ওষুধ পাওয়া যায় না। ডাক্তার পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়।’ নিজের ৭৫ হাজার টাকা দামের গরু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বাঁচাতে পারেননি শান্তিপুর সুত্রাগড় সেন পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, ‘এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনও ডাক্তার নেই। ঔষধ পত্র পাওয়া যায় না। ৮ হাজার টাকা খরচা করে আমি আমার গরুকে বাঁচাতে পারিনি।’ বাড়ির পোষ্য খরগোশকে নিয়ে এসে ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি শান্তিপুরের বাসিন্দা সুভাষবাবু।

ওই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের ওপর শান্তিপুরের মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। অথচ ডাক্তার রিটায়ার্ড করার পরে নতুন করে কেন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে এ বিষয়ে ফুলিয়ায় অবস্থিত প্রাণি সম্পদ দপ্তরের আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি।
কেনই বা পাওয়া যায় না পশুদের চিকিৎসার ওষুধ, মেলেনি সেই প্রশ্নের উত্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *