স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৮
মে: দলীয় রাজনীতি আর শত ব্যস্ততার বেড়াজাল দূরে সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুর ইসকনে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব পরিকল্পনা মেনেই আজ ঠিক সকাল ১১টা নাগাদ তাঁর হেলিকপ্টার নামে মায়াপুরের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে সোজা তাঁর গাড়ি ঘোরে ইসকনের গোশালার দিকে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর মঙ্গল কামনায় আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ যজ্ঞের। যজ্ঞ শেষ হতেই গো-মাতাদের পুজো ও নিজের হাতে বিশেষ লাড্ডু খাইয়ে গো-সেবা করতে দেখা যায় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে।
শুভেন্দুর এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা ইসকন চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে। অন্যদিকে, স্থানীয় ও বিদেশী ভক্তদের সম্মিলিত হরিনাম সংকীর্তনের সুরে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। কিন্তু হঠাৎ শুভেন্দুর মায়াপুর সফর কেন?

ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস এক অদ্ভূত ও ঐতিহাসিক সত্য ফাঁস করে বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আজ বা কালকের নয়, প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো! মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব যখন সন্ন্যাস নিয়ে পুরী চলে যান, তখন নাকি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারেরই এক সদস্য ঘর ছেড়ে মহাপ্রভুর সঙ্গী হয়েছিলেন। মেদিনীপুরের মেচেদার ইসকন মন্দিরেও শুভেন্দুর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইসকনের আর কোনো আলাদা চাওয়া-পাওয়া নেই।
রসিক গৌরাঙ্গ দাসের কথায়, যিনি সংসারের দায়িত্ব নেন, সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁরই। নবদ্বীপ ধাম একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ছিল। বর্তমানের ক্ষয়িষ্ণু শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখন শুভেন্দু বাবুর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।

