আমাদের ভারত, ৬ অক্টোবর: দেশের শীর্ষ আদালত কৃষক সংগঠনের উদ্দেশ্য প্রশ্ন তুলল যখন কৃষকরা কৃষি আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে এসেছেন, তখন কেন আবার রাস্তায় আন্দোলন করছেন? কেন সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে? কৃষকদের আন্দোলনের জন্য রোজকার জীবনযাত্রায় অসুবিধা হচ্ছে বলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা জমা পড়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত বলে প্রতিবাদের অধিকার শর্তহীন অধিকার কিনা, আগে আদালত সেই বিচার করবে।
উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের বিক্ষোভ হিংসায় মৃত্যুর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বিচারপতিরা বলেন, যখন এই ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটে, মৃত্যু হয়, সম্পত্তি নষ্ট হয়, তখন কেউ দায়িত্ব নেয় না। বিচারপতিদের প্রশ্ন,নয়া কৃষি আইনে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইন কার্যকর হবে না। তাহলে কিসের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে? বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। তখন কিভাবে আন্দোলন হতে পারে?
শীর্ষ আদালতের এই প্রশ্ন শুনে কৃষক নেতাদের বক্তব্য তারা সুপ্রিম কোর্টে কোন মামলা করেননি। কয়েকশো কৃষক সংগঠনের মঞ্চ সংযুক্ত কিষান মোর্চা গত দশ মাস ধরে আন্দোলন করছে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ভাবে সমস্যা সমাধানের দাবি করেছেন। আদালতের দ্বারস্থ হননি। কিষান মহা পঞ্চায়েতের মতো যেসব সংগঠন সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছে তাদের সঙ্গে আন্দোলনের কোন যোগ নেই। তাদের সঙ্গে কৃষকদের জনসমর্থন নেই। সুপ্রিম কোর্ট কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি খারিজ করে দিলে বিজেপির সুবিধা হয়ে যাবে বলেই এইসব সংগঠনকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। কিষাণ মহা পঞ্চায়েত নিজেও জানিয়েছিল তারা আন্দোলনের নেই। তবে তারা যন্তর মন্তরে সত্যাগ্রহে বসার আগে জানিয়েছিল।
কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে, প্রতিবাদের অধিকার শর্তহীন অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা আগে সেই আইনে বিচার হবে। কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল লখিমপুরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন এই ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। এই আন্দোলন বন্ধ হওয়া দরকার। সুপ্রিমকোর্ট স্পষ্ট করে দিক, এই আইনের বিরুদ্ধে যখন শীর্ষ আদালতে মামলা হয়েছে তখন সড়কে আন্দোলন চলতে পারে না। আগামী ২১ অক্টোবর এই মামলার আবার শুনানি হবে।

