আমাদের ভারত, ১১ নভেম্বর: বাংলার প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ করছে না বিজেপি, বাংলা নিয়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বিজেপির। বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য করেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এতদিন পর সে কথা তিনি বুঝলেন? কেন তিনি এখন ছাড়লেন দল? সেই প্রশ্ন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপি করলে কাজ পাওয়া যায় না টলিউডে। তাই শিল্পী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বিজেপি ছাড়ছেন।”
সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে তুলে ধরেন বিজেপি নেতা তথা টলিউডের অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের কথা। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, রুদ্রনীল ঘোষ অত্যন্ত গুণী শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি বিজেপি করার কারণেই গত এক বছর ধরে কোনও কাজ পাচ্ছেন না।
যদিও বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। তাঁর কথার এই সমস্যাটা টলিউডে বোধহয় কেউ ফেস করেন না। শুধু বিজেপির পলিটিক্যাল মুখরাই এমন কথা বলে থাকেন।
শ্রাবন্তীর বিজেপি ছাড়া ক্ষেত্রে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায়। তিনি বলেন,”দল ছেড়েছে হাফ ছেড়ে বেঁচেছি।” শ্রাবন্তীর দল ছাড়া নিয়ে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “শ্রাবন্তী স্বেচ্ছায় এসেছিলেন, আবার স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন। তাঁর বিজেপিতে না থাকায় দলের কোনও সমস্যা হবে না।”
তবে শ্রাবন্তীর এই সিদ্ধান্ত একেবারেই যে আচমকা নেওয়া তা কিন্তু নয় বলেই গুঞ্জন। কারণ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ডাকে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ গিয়েছিল বিজেপি নেত্রী শ্রাবন্তীর কাছে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সেখানে উপস্থিত না থাকলেও অভিনেত্রীর কাছে আমন্ত্রণপত্র যাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ায় রটেছিল যে তিনি বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা না করে মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আসবেন না। যদিও শ্রাবন্তী নিজে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শুধু বিজেপি ছাড়াই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির ছাড়ার যে কারণ অভিনেত্রী ব্যখ্যা করেছেন তা থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উস্কে দিয়েছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

