বালুরঘাট, আমাদের ভারত, ১২ এপ্রিল: আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচন চলাকালীন বুথে রাজ্য পুলিশ বাহিনী ঢোকা নিয়ে সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আজ বালুরঘাটে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এব্যাপারে ক্ষোভের সুরে বলেন, নির্বাচনে কোথাও রাজ্য পুলিশের ঢোকার অনুমতি নেই। তা সত্বেও আসানসোলে তাই হয়েছে। আসানসোলে বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, আসানসোলের বারাবণীতে ১৭৭ ও ১৭৮ নম্বর বুথে রাজ্য পুলিশকে ঢুকতে দেখা গেছে। সেটা নিয়ে তার দলের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল প্রতিবাদ জানাতে গেলে তার উপর হামলা চালানো হয়। তার গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়।
আসানসোল কেন্দ্রের একাধিক বুথ থেকে বিজেপির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এই ব্যাপারে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই ঘটনা এই রাজ্যেই সম্ভব। তৃণমূল এভাবেই ভোট করায়, কেননা তারা জনগনের মতকে প্রকাশিত হতে দিতে চায় না।” তবে তিনি আশাবাদী, এরকম বেশিদিন চলতে পারে না। মানুষ একদিন এর বিরুদ্ধে সঠিক পথ বেছে নেবে।
অন্যদিকে বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনেও সকাল দিকে বেশ কিছু বুথে তাদের বুথ কর্মীদের বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে বালিগঞ্জের বিভিন্ন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোবাইল নিয়ে জোর জুলুম চালাচ্ছে বলে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের নিয়ম মেনেই কাজ করে। কেউ যদি মোবাইল নিয়ে বুথে যাওয়া নিষিদ্ধ জেনেও মোবাইল নিয়ে যেতে চায় বুথে তাহলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তো তার কাজ করবেই। নিয়মের বাইরে তারা কিছু করবে না।”
বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ঘোরার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, কোনো গুন্ডা নয় তাদের প্রার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরছেন এবং তারা নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্তই তাদের নিয়ে যাচ্ছেন। বরং তার পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও কেন রাজ্য পুলিশ বুথের ভেতর প্রবেশ করছে?
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণ,খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি ফের দাবি করেন রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “আমরা যে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছি তার ইঙ্গিত হলো প্রতিদিন রাজ্যে খুন- ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটা”। তার কথায়,”রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তথা পুলিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ট্রেড মার্ক রয়েছে, সেটা হলো প্রতিদিন এই রাজ্যে খুন ধর্ষন হওয়া।”

