Sukanta, BJP, ২য় প্রাচীন রথযাত্রা, মাহেশের রথের ইতিহাসকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন সুকান্ত মজুমদারেরর

আমাদের ভারত, ১৬ জুলাই: মাহেশের রথযাত্রার ইতিহাস বহু প্রাচীন। তাই এই রথযাত্রার ইতিহাসকে রাজ্যের পড়ুয়াদের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে মাহেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীর কাছে।

ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাধারানী উপন্যাসে মাহেশের রথের উল্লেখ করেছেন তিনি। কেমন ভিড় হতো এই রথে তার বর্ণনা দিয়েছেন। বাংলা সাহিত্য বা ইতিহাসে আগামী দিনে আমাদের ছাত্র- ছাত্রীদের যে সমস্ত সাধারণ জ্ঞান দেওয়া হয় তাতেও মাহেশের উল্লেখ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ৬৩০ বছর ধরে কত ইতিহাস বয়ে চলেছে মাহেশের এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে সাধু-সন্ত থেকে বহু মনীষী এই রথে এসেছেন। চৈতন্য মহাপ্রভু এই মাহেশে এসেছিলেন। একই সঙ্গে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, স্বামী বিবেকানন্দ, সারদা দেবীও এখানে এসেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই মাহেশের রথকে নিয়ে গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন। ধর্মীয় থেকে সামাজিক ইতিহাসে এই জগন্নাথ দেবের একাধিক প্রমাণ মেলে।

আজ মাহেশে একেবারে জগন্নাথকে স্পর্শ করে পুজো দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রথের দিন শ্রীরামপুরের মাহেশে এসে তিনি নিজেকে ধন্য বলে মনে করেছেন বলে উল্লেখ করেন। পদ্মফুল, রজনীগন্ধার মালা দিয়ে প্রভুর পুজো করেন তিনি। পুষ্পাঞ্জলি দেন ও অন্নভোগ গ্রহণ করেন।

পুজোর শেষে মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে দাঁড়িয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, জগন্নাথ বিগ্রহকে স্পর্শ করার সৌভাগ্য হলো আমার। এটা পরম পাওয়া। চৈতন্য মহাপ্রভু স্পর্শ করেছিলেন ও মাহেশকে নব নীলাচল আখ্যা দিয়েছিলেন। ৬৩০ বছরের পুরনো এই রথযাত্রা। পুরীর পর এটি হলো দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা। নিজেকে ধন্য মনে করছি। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, তিন জায়গাতেই পদ্ম ফুটেছে। আমি ভগবান জগন্নাথ’কে, তাই পদ্মফুল অর্পণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, গোটা বিশ্বব্যাপী চৈতন্য মহাপ্রভুর যারা ভক্ত রয়েছেন তাদের কাছে মাহেশের জগন্নাথের ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে বিশ্ব পর্যটনকেন্দ্র তৈরি হবে এই মাহেশে। আমি রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ কে বলব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *