Father, Education Minister, মেয়ে নিখোঁজ চার মাস, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর দরবারে বাবা

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৬ জুলাই: দীর্ঘ চারমাস ধরে মেয়ের খোঁজে বুকে ছবি ঝুলিয়ে মোটর বাইক নিয়ে জেলার রাজনগর থেকে রাজগ্রাম ছুটে বেরিয়েছেন বাবা। অচেনা ফোন পেয়ে মেয়ের সন্ধানে ছুটে গিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু কোনো আশার আলো না পেয়ে এবার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হলেন বাবা। দু’চোখের জলে ভাসালেন বুক। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার কাতর আর্তি জানালেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ১৩ মার্চ সিউড়ির ডাঙ্গাল পাড়ার বাসিন্দা বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা সিনহা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে বাবা অর্ধেন্দু সিনহা সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু তাতে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মেয়ের ছবি গলায় ঝুলিয়ে মোটর বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জেলার দুই শেষ প্রান্তে। মেয়ের নাম, শরীরের বর্ণনা সবই লেখা ওই প্ল্যাকার্ডে। রাস্তায় জটলা দেখলেই বাইক থামিয়ে মেয়ের ছবি দেখিয়ে খুঁজে দেওয়ার কাতর আবেদন জানান। গুরুত্বপূর্ণ জায়গার দেওয়ালে সাঁটানো হয় মেয়ের ছবি দেওয়া পোস্টার।

জুন মাসের শেষের দিকে উড়ো ফোনে সিউড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অর্ধেন্দুবাবু ছুটে যান আসানসোলে। কুলটি থানার চাঁদপুর এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সিনহা দম্পত্তিকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ যায় দুর্গাপুরের বি সি রায় কলেজে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেছেন অমৃতা। পুলিশ কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকা, বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলে সূত্র বের করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে এক আইনজীবীর তথ্য পায় পুলিশ। কিন্তু কে সেই আইনজীবী সেটা উদ্ধার করতে পারেনি। তার খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাতভর তারাপীঠে মেয়েকে খুঁজে বেরান সিনহা দম্পত্তি। ওইদিন সকালে স্ত্রী সুপ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান তারাপীঠে। অধিকাংশ হোটেলে মেয়ের ছবি দেখিয়ে খুঁজে বেড়ান। মন্দিরের সেবাইতদেরও দরজায় কড়া নাড়েন। রাতে তারাপীঠ শ্মশানে খুঁজে বেড়ান মেয়েকে।

অর্ধেন্দুবাবু জানান, কলেজে পড়াশোনা শেষে মেয়ে কিছুটা আধ্যাত্মিক দিকে চলে গিয়েছিল। ঠাকুর জপ করা, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ নিয়ে পড়ে থাকতো সারাক্ষণ। তাই ভাবা হয়েছিল যদি সিদ্ধপীঠ তারাপীঠে পাওয়া যায়। তিনি কথা বলেছিলেন তান্ত্রিকদের সঙ্গেও। কিন্তু সেখানেও নিরাশ হয়ে ফেরেন। ইতিমধ্যে পুলিশ একটি বিশেষ টিম তৈরি করে অমৃতার সন্ধান চালাচ্ছিল। পাশাপাশি সাহায্য নেওয়া হয়েছে সিআইডি, কলকাতা পুলিশের গয়েন্দা বিভাগের। তাদের ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স গেজেটে অমৃতার সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে তরুণীর তথ্য রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যের পুলিশ মহলেও পৌঁছে গিয়েছে। এরকম করে চারমাসেও মেয়ের খোঁজ মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার সিউড়িতে জনতার দরবারে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে যান অর্ধেন্দু সিনহা। সেখানে পুনরায় মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার কাতর আবেদন জানান।

জগন্নাথবাবু বলেন, “এনিয়ে তৃতীয়বার উনি আমার কাছে এলেন। আমি পুলিশ ও গয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবর করছি। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার সময় ওই তরুণী কোনো মোবাইল নিয়ে যায়নি। কাছে ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড নেই। ফলে তথ্যসূত্র মিলছে না। তবে আমি আশাবাদী দেরি হলেও পুলিশ তরুণীর সন্ধান পাবে।”

অর্ধেন্দুবাবু বলেন, “সবাই চেষ্টা করছেন। কিন্তু মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। মন্ত্রী আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। কিন্তু মনকে আর মানাতে পারছি না। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আমরা কোনরকম বেঁচে আছি। কবে মেয়ের মুখ থেকে বাবা ডাক শুনবো সেই অপেক্ষায় দিন গুনছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *