শিক্ষারত্ন পেলেন বর্ধমান আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবীর কুমার দে

আমাদের ভারত, বর্ধমান, ৫ সেপ্টেম্বর :
পুঁথিগত বিদ্যা নয় ছাত্রছাত্রীরা যাতে খেলার ছলে পড়াশোনার মধ্যে একাত্ম হয়ে যেতে পারে সেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন তিনি। পিছিয়ে পড়া সমাজের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আঙিনায় আনাই ছিল তার উদ্দেশ্য। তার হাত ধরেই জেলার মানচিত্র ছাড়িয়ে আজ রাজ্যের স্কুলের তালিকায় উঠে এসেছে আদর্শ বিদ্যালয়ের নাম। সেই নাম তোলার কান্ডারি বলা যায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবীর কুমার দে-কে। শিক্ষক দিবসে রাজ্য সরকার তার হাতে তুলে দিল শিক্ষারত্ন পুরস্কার।

২০১১ সালে বর্ধমানের গোদা এলাকায় অবস্থিত আদর্শ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুবীর কুমার দে। সেই সময় স্কুলের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র ক্লাস রুম।ছিল না ক্লাসের দরজা জানালা। স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই ছিল পিছিয়ে পড়া পরিবারের। ফলে তাদের শিক্ষার আঙিনায় নিয়ে আসা ছিল খুবই কঠিন কাজ। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য ঘরানায় ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তুলছেন তিনি।

পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মানসিক বিকাশ ঘটানোর জন্য স্কুলের ছাদে বাগান তৈরি, গাছে পাখির বাসা তৈরি, ফুল ফলের চাষ করা যায় সেই ভাবনাও ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

আজ রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা তার হাতে রাজ্য সরকারের দেওয়া শিক্ষারত্ন পুরস্কার তুলে দেন। তিনি এই পুরস্কার পাওয়ায় খুশি স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক মহল।
প্রধান শিক্ষক সুবীর কুমার দে বলেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক,প্রশাসন, এন জিও সহ সকলেই স্কুলের উন্নতিতে সামিল হয়েছেন। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় স্কুলের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ আমাদের স্কুলের চারপাশে অনেক ভালো ভালো স্কুল আছে। ফলে আমাদের লড়াই ছিল খুবই কঠিন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে
এই শিক্ষারত্ন পুরস্কার। সেই পুরস্কার আমি সকলকেই উৎসর্গ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *