রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ জুলাই: ২ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকে উত্তপ্ত বিধানসভার আবহাওয়া। প্রথমে রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ এবং তার প্রতিবাদে বিজেপির বিক্ষোভ। এরপর জাল ভ্যাকসিন কান্ডের প্রতিবাদে বিজেপির পৌরসভা অভিযান এবং তার জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। তৃণমূল বিধায়করা বক্তব্য রাখতে উঠলেই কক্ষ ছেড়ে বেড়িয়ে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও এই ওয়াক আউটকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল শিবির।
মঙ্গলবার দিনের প্রথমার্ধ্বে রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা করতে গিয়ে নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কদের একপ্রস্থ কথা কাটাকাটি হয়। মিহির গোস্বামীকে ঘিরে তৃণমূল বিধায়করা দলবদল নিয়ে আক্রমণ করেন। পালটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে মিহির বলেন, তিনিই তো কংগ্রেস থেকে দল বদলে তৃণমূলে গিয়েছেন। এরপর ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিজেপির বিধায়ক মিহির। দেবাঞ্জনের নাম না করে সরকারকে আক্রমণ করা হয়েছে। কেন এই বিষয়টি নেই রাজ্যপালের ভাষণে? এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভপ্রকাশ করা হয়।
মিহির গোস্বামীর অভিযোগ, মন্ত্রীদেরও নাম রয়েছে এই কাণ্ডে। এরপর তৃতীয় তৃণমূল সরকারকে ‘কাটমানির সরকার’, ‘ভাঁওতাবাজির সরকার’, ‘নারী নির্যাতনের সরকার’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। স্পিকার জানিয়ে দেন, মিহিরের বক্তব্যে কোনও আপত্তিকর কথা আছে কি না, তা দেখে বাকিটা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন “স্পিকার দলদাস, বিধানসভাতেও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে”: শুভেন্দু অধিকারী
এর জবাবে ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁর প্রশ্ন, ”কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপির রাজ্য সরকারগুলিকে ৩ কোটি করে ভ্যাকসিন দিয়েছে। আমাদের রাজ্যে পৌনে দু’কোটি মাত্র ভ্যাকসিন কেন?” কেন্দ্র রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পালটা অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা। আলোচনা চলাকালীন স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কক্ষ ছেড়ে বেড়িয়ে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা।

