দামোদরের ভাঙ্গনের মুখে গ্রাম, কাঁকসার সিলামপুরে সবুজ বাঁচাতে গাছে রাখি বাঁধলো ইশমাতারার পড়ুয়ারা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ আগস্ট: দামোদরের গ্রাসের মুখে কাঁকসার সিলামপুর শশ্মান, শিবমন্দির সহ গ্রামের একাংশ। ভাঙ্গন রুখতে লাগানো হয়েছে গাছ। আর ওই সব সবুজ অরণ্যকে রক্ষা করতে গাছে রাখি বাঁধলো গৃহশিক্ষিকা ইশমাতারা খাতুন ও তার পড়ুয়ারা। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সম্প্রীতির বার্তা দিতে গ্রামে, বাজারে, ব্যাঙ্ক কর্মী, থানার পুলিশ কর্মী, চিকিৎসকদের হাতে রাখি বেঁধে দেয় তারা।

দামোদর নদের তীরে কাঁকসার সিলামপুরে প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। মন্দির সংলগ্ন রয়েছে শশ্মান। মকর সংক্রান্তিতে ওই মন্দির প্রাঙ্গনে বাউল মেলা বসে। এছাড়াও বৈশাখ মাসে গাজন ও শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালতে পুন্যার্থীদের ঢল নামে। গত কয়েকবছর ধরে জলস্রোতে দামেদরের পাড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এবার গ্রাসের মুখে প্রাচীন ওই মন্দির প্রাঙ্গন। সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে প্রাচীন ওই শিবমন্দির প্রাঙ্গনকে দামোদরের গ্রাস থেকে বাঁচাতে চলতি বছর অরণ্য সপ্তাহে বৃক্ষরোপন করেছিল ইশমাতারা ও তার পড়ুয়ারা। আম, কাঁঠাল, আমলকি, হরিতকি, মেহগিনি অশোক গাছের মতো চারা লাগানো হয়। এবার ওইসব সবুজকে রক্ষা করতে গাছে রাখি বেঁধে রাখিবন্ধন পালন করল ইশমাতারা ও তার পড়ুয়ারা।

বৃহস্পতিবার নিম্নচাপের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে রাখি হাতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে ছিল তার তিন পড়ুয়া সুহানা মির, সাহিদা খাতুন ও সেখ মুবিন। মন্দির প্রাঙ্গনে দামেদরের পাড়ে লাগানো গাছে রাখি বেঁধে দেন তিনি। একই সঙ্গে সেখান থেকে উপস্থিত গ্রামবাসীদের হাতে রাখি বাঁধেন। সিলামপুর, পানাগড়, কাঁকসা বাজারে সাধারণ মানুষ ব্যাঙ্ক কর্মী, চিকিৎসক, নার্স, এমনকি কাঁকসা থানায় পুলিশ কর্মীদের হাতে রাখি বাঁধলেন তিনি। রাখি বাঁধার পর মিষ্টিমুখের জন্য চকলেটের ব্যবস্থা ছিল। এভাবে এক গৃহশিক্ষিকা ও তার পড়ুয়াদের রাখি বন্ধন পালনে আপ্লুত হয়ে পড়েন পথচলতি মানুষ থেকে ব্যাঙ্ক কর্মী, পুলিশ কর্মী সকলে। সকলে দু’হাত তুলে আশীর্বাদও দেন।

এদিন ইশমাতারা খাতুন বলেন, “আমরা দেখেছি অনাবৃষ্টি। আমরা দেখেছি পরিবেশ দূষণ। আমরা দেখেছি মাটি ক্ষয়, নদীর পাড় ভাঙ্গন, ভূমি ধস। সম্প্রতিকালে কোভিড -১৯ এর মতো মারণ থাবায় গোটা বিশ্ব আজ সিঁটিয়ে। আমরা দেখেছি প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ। আর প্রকৃতির এই রূদ্র রূপের কারণ পরিবেশের প্রতি অত্যাচার। কোথাও নির্বাচারে গাছ কাটা চলছে। আবার কখনও আগুনের গ্রাসে জঙ্গল জ্বলতে দেখেছি। আর তাই সুস্থ পরিবেশের লক্ষ্যে, আজ সবুজ অরণ্যকে রক্ষার শপথ নিয়েছি রাখিবন্ধন বা রক্ষাবন্ধনে। গাছকে রক্ষা করার জন্য, বাঁচানোর জন্য রাখি বেঁধে দিলাম। পরিবেশের সবুজ অরণ্যের যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে। সুরক্ষিত গাছ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বেঁচে থাকুক সবুজ অরণ্য। ফিরে আসুক দুষণমুক্ত পরিবেশ।”

তিনি আরও বলেন, “করোনা আবহে চিকিৎক, নার্স, চিকিৎসা কর্মী, পুলিশ কর্মী, ব্যাঙ্ক কর্মী সকলে ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের কর্তব্য পালন করেছেন। সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ কর্মী, চিকিৎসা কর্মী দাদা, ভাইদের সুরক্ষা কামনায় সকলের হাতে রাখি পরিয়ে রাখি বন্ধন পালন করেছি। আমার মতো ছোট বোনের এই রাঙা সুতোর রাখি সকলকে সুরক্ষিত রাখুক।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *