সিবিআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা না করায় গ্রেফতার অনুব্রত

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১১ আগস্ট: বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হলেন। বৃহস্পতিবার সকালেই সিবিআইয়ের বিশাল বাহিনী অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের নীচুপট্টির বাড়িতে হানা দেন। প্রথমদিকে অনুব্রত তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছিলেন না বলে অভিযোগ। তারপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে টানটান উত্তেজনার পর গ্রেফতার হলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। গোরু পাচার মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

অনুব্রতর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোরু পাচার মামলাতেই বীরভূমের এই দাপুটে নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এদিন সকালে সিবিআইয়ের বিশাল বাহিনী অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের নীচুপট্টির বাড়িতে হানা দেয়। সঙ্গে ছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিবিআই আধিকারিকরা একেবারে বাড়ির ভিতরে দোতলায় অনুব্রতর ঘরে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতারি পরোয়ানাতে স্বাক্ষর করিয়ে গ্রেফতার করেন। জেলার দাপুটে এই তৃণমূল নেতার পরিণতি দেখতে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান বহু উৎসুক মানুষ। অনুব্রতর অসুস্থতার কথা ভেবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর তরফে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নিয়ে আসা হয়। এদিনই অনুব্রতকে আসানসোল আদালতে তোলা হবে বলে সূত্রের খবর।

জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে ঢোকার পর ৪৫ মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তাঁর নাগাল পাননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। বাড়ির দোতলার ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ওই ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর গোয়েন্দারা একপ্রকার বলপূর্বক দোতলায় উঠে অনুব্রতর ঘরে ঢোকেন এবং তাঁকে গ্রেফতারি পরোয়ানাতে স্বাক্ষর করিয়ে গ্রেফতার করেন। অনুুব্রত মণ্ডলের নাগাল পাওয়ার আগে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী আশিস ওরফে বিশুরও খোঁজ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা। বিশু সেই সময় অনুব্রতর বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর ফোন নম্বরও জোগাড় করার চেষ্টা করেন সিবিআই আধিকারিকেরা। যদিও শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত বিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডল আদৌ বাড়িতে রয়েছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। এর মধ্যে রাজ্য পুলিশের এক কর্তাকেও ডেকে পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তবে বিশুর নম্বর না পেলেও দোতলার ঘর থেকেই অনুব্রতকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

এদিন সকাল ৮টা নাগাদ অনুব্রত মণ্ডলের নীচুপট্টির বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল দল। সঙ্গে ছিল ১০০ জন সিআরপিএফের জওয়ান। অনুব্রতর বাড়ির যতগুলি গেট ছিল, সবকটি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বলা যায়, অনুব্রতর বাড়ি সহ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। ঘটনার পরিণতি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বিরোধীরাও এলাকায় ভিড় করেন। জেলার দাপুটে নেতার বাড়িতে সিবিআই হানা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান অনুব্রতর গোটা বাড়ি যেভাবে ঘিরে ফেলে, সেই ঘটনায় অবাক সকলেই।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত ১১ টা নাগাদ বোলপুরে অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে হানা দেয় সিবিআইয়ের বিশাল বাহিনী। ৫ টি গাড়িতে করে কলকাতা ও আসানসোল থেকে সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা বোলপুরে যান। বুধবার কেন্দ্রীয় গেস্ট হাউসে রাত্রিবাস করেন তাঁরা। তারপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বোলপুরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযানে বেরোন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী সহ ৩০-৩৫ জনের একটি দল সেখানে পৌঁছয়। তারপর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। সেই বৈঠকের পরই অনুব্রতর বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *