আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ৫ সেপ্টেম্বর: উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন যতই চড়া হোক না কেন তিনি শিক্ষক, এই বার্তা নিয়েই অবস্থানে বসা পড়ুয়ারা রবিবার শিক্ষক দিবসের সকালেই পুষ্পস্তবক হাতে পৌছে গিয়েছিলেন উপাচার্যের বাংলোর দরজায়। চেয়েছিলেন ভিতরে গিয়ে উপাচার্যকে সম্মান জানাতে। উপাচার্য সাড়া দেননি। ফুল উপাচার্যের দরজায় নামিয়ে রেখেই ফিরে আসেন পড়ুয়ারা।

এর আগে শনিবার গভীর রাতে আশ্রম গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাতে পড়ুয়ারা আশ্রম সঙ্গীত গাইতে গাইতে পথ হেঁটেছিলেন ক্যাম্পাসে। সেইসঙ্গে ক্যাম্পাসে বর্তমান বন্দিদশা ও অচলায়তনের প্রতীক হিসাবে কেউ দুটো হাত বেঁধে রেখেছিলেন কাপড়ে, কেউ হাতে জড়িয়েছিলেন সেলোটেপ তো কেউ শরীরের সাথেই বেঁধেছিলেন দুই হাত। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালে, উপাচার্যের নেওয়ার তিন পড়ুয়ার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অবস্থানে বসা পড়ুয়ারা নানান কর্মসূচি পালনের পর দুপুরে আন্দোলনের নয়া রূপ দিয়েছেন। এবার শুরু হয়েছে অনশন। ১০ দিন ধরে ধরে লাগাতার অবস্থান করেও পড়ুয়াদের দাবি না মেটায়, কর্তৃপক্ষের কোনওরকম সাড়া না মেলায় এবার শুরু হয়েছে অনশন। অনশনে বসেছেন বহিষ্কৃত ছাত্রী রূপা চক্রবর্তী। তিনি একা নন, অনশনে তাঁর সাথী হয়েছেন সাসপেন্ড হওয়া অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যও।

পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, উপাচার্যের একের পর এক গা জোয়ারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন বছর পার করতে চলেছে। প্রথমে অধ্যাপক কর্মীদের সাসপেনশন, শায়েস্তা, হেনস্থা তারপর তাঁর বিরুদ্ধে সরব হওয়া পড়ুয়াদের উপর আক্রমন, গত কয়েকমাস ধরে উপাচার্য এক স্বৈরাচারী রাজত্ব কায়েম করেছেন বিশ্বভারতীতে। শেষমেশ তিন পড়ুয়াকে বহিষ্কারের মত কঠোর পদক্ষেপ নিতেও তিনি পিছপা হননি। তাই এই উপাচার্যের সাথে কোনও আপোস নয়, বহিষ্কার সাসপেনশন প্রত্যাহারের সাথে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতেই আমরা আন্দোলন নেমেছি।
বহিষ্কৃত ছাত্র এসএফআই নেতা সোমনাথ সৌ জানিয়েছেন, ‘‘আমরা আগেই বলেছিলাম যত দিন যাবে ততই আন্দোলন তীব্র হবে। আইনী পথে লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। এদিন রিলে অনশনের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে।’’

এদিন দুপুরে অনশন শুরু করেছেন বহিষ্কৃত ছাত্রী রূপা চক্রবর্তী। তার কিছুক্ষণ পরে সেই অনশনে সামিল হয়েছেন অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফা’র সভাপতি অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। যিনি পড়ুয়াদের মত উপাচার্যের রোষের শিকার গত প্রায় এক বছর ধরে। নানান ভাবে তাঁকে হেনস্থা করেও সফল না হয়ে উপাচার্য সাসপেন্ড করে রেখেছেন এই অধ্যাপককে বলে অভিযোগ। কারণ উপাচার্যের নানা অনাচারের বিরুদ্ধে বারেবারেই সরব হয়েছেন এই অধ্যাপক। অনশনরত ছাত্রী রূপা চক্রবর্তী বলেন, “আমরা দশদিন ধরে উপাচার্যের বাড়ির কাছে অবস্থান করছি। এই দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আমাদের বক্তব্য, আবেদন উপাচার্যের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি। তাই আজ থেকে আমি অনশন শুরু করলাম। যতদিন না আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততদিন অনশন চলবে।”
এদিন অনশন মঞ্চে বসে উপাচার্যের প্রতি তীব্র আক্রমন শানিয়েছেন অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যও। তিনি বলেছেন, “উপাচার্য ক্রমাগত মিথ্যাচার করে চলেছেন। কখনও বলছেন পড়ুয়ারা তালা মেরেছেন, কখনও বলছেন পড়ুয়াদের আন্দোলনের জন্য বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। যা প্রমানীতও হয়েছিল। সেই নথি আমার কাছে আছে। তাই তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারেননি। তাই এই মিথ্যাচারী, স্বৈরাচারী উপাচার্যের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন থামাবার কোন অবকাশ নেই। রিলে অনশন শুরু করেছি, দাবি না মিটলে আমরন অনশনের পথে যাব।”

