বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম জেলার ৫ গ্রামের পড়ুয়ারা পাবে অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ, দুর্গাপুর এনআইটি তৈরী করল সেন্টার ফর ডিজিটাল লার্নিং

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৯ আগস্ট: অনলাইনে গ্রামের পড়ুয়ারা পাবে উন্নত পঠনপাঠনের সুযোগ। কলেজ থেকে অনলাইনে গ্রামের পড়ুয়াদের করানো হবে পঠনপাঠন। ক্লাস নেবেন এনআইটির অধ্যাপকরা।দুর্গাপুর জাতীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এনআইটি তৈরী করল সেন্টার ফর ডিজিটাল লার্নিং। বুধবার তার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার। 

প্রসঙ্গত, গত দেড় বছর ধরে করোনার মারণ থাবায় সিটিয়ে গোটা বিশ্ব। বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজে ক্লাসরুমের পঠন পাঠন। ডিজিটালের যুগে অনলাইনে চলছে পঠনপাঠন। আর এই অনলাইন পঠনপাঠন প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে দুর্গাপুর জাতীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এনআইটি। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী বিল্ডিংয়ে উদ্বোধন হয় সেন্টার ফর ডিজিটাল লার্নিং। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। কি থাকছে এনআইটির ডিজিটাল লার্নিংয়ে? এনআইটির ডিরেক্টর অনুপম বসু বলেন, “কোভিডকালে অনলাইনে পঠনপাঠন হচ্ছে।  অনলাইন পঠনপাঠনে কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, পড়ানোর ধরন পরিমার্জত করা দরকার। তার জন্য গবেষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কনটেন্ট ডিজিটাল তৈরী করা হবে। আর বিশেষ প্রকল্প ৫ টি গ্রামের পড়ুয়াদের ডিজিটাল অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হবে।”

তিনি বলেন, “কলেজের ডিজিটাল লার্নিং রুমে ট্যাব থাকবে। ক্যামেরা থাকবে। অপর দিকে যে পাঁচটি গ্রামকে নির্ধারিত করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষাবাস থাকবে। সেখানেও জায়েন্ট স্ক্রিন ও ক্যামেরা থাকবে। তবে স্কুলের পঠন পাঠনের সময় এই শিক্ষা প্রদান করা হবে না। সন্ধ্যায় করা হবে। সেখানে পরিকাঠামো থাকবে। একজন অপারেটর থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “কলেজে থেকে শিক্ষকরা লাইভ ক্লাস নেবেন। সরাসরি পড়ুয়ারা সেটা দেখবে। পড়ুয়াদের দেখতে পাবে এখানের শিক্ষকরা। প্রশ্ন করবেন। লিখে দেবেন। সেটা পড়ুয়াদের জায়েন্ট স্ক্রিনে লেখা উঠবে। উত্তর দেবে পড়ুয়ারা। সমস্তটাই স্ক্রিনে দেখা যাবে।”

তিনি বলেন,”আপাতত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম জেলার ৫ টি গ্রামে এই ডিজিটাল লার্নিংয়ের জন্য ব্যাবস্থা করা হয়েছে। সপ্তম, অস্টম ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে শুরু করা হবে। পরবর্তিকালে বাকি ক্লাসের পড়ুয়াদের নিয়ে এবং আরও গ্রামকে নিযুক্ত করা হবে।”

এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, “চ্যালেঞ্জ থেকে আসে অপরচ্যুনেটি। আজ কোভিড আবহে এই অনলাইন শিক্ষা ব্যাবস্থা জরুরি হয়েছে। আগে বলা হত ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ এখন তার আরও সংযোজন করা হয়েছে ‘সবকা প্রয়াস’। কোভিড নির্মূল করতে হবে। তাই সকলের প্রয়াস দরকার।” এদিন ডিজিটাল লার্নিংয়ের গ্রামের শিক্ষাবাসের পরিকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” কেন্দ্রীয় সরকার সবরকমভাবে সহযোগিতা করবে। এবং এধরনের শিক্ষা ই-কনটেন্ট তৈরী করা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *