অমরজিৎদে, ঝাড়গ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর: স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বদলি আটকাতে স্কুল চত্ত্বরে বিক্ষোভ দেখাল স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা। স্কুলের পঠনপাঠন এবং উন্নতির স্বার্থে প্রধান শিক্ষক যাতে বদলি না নেন তার জন্য শিক্ষকের একেবারে পায়ে ধরে অনুনয় বিনয় করল পড়ুয়ারা। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের আশুই পল্লীমঙ্গল বিদ্যাপীঠে।

জানাগেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণ কুমার চক্রবর্তীর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলাতে হলেও আশুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন ২০১৫ সাল থেকে। প্রধান শিক্ষক তরুণ কুমার চক্রবর্তী আশুই স্কুলের প্রধান হওয়ার আগে স্কুলের অবস্থা ছিল একেবারে ভগ্নপ্রায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষকের অদম্য প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার জন্য আশুই পল্লীমঙ্গল বিদ্যাপিঠ পেয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন বিল্ডিং, ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস, খেলার মাঠ, মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম। পঠনপাঠনের জন্য স্কুলের সুনাম এলাকায় সর্বজন স্বীকৃত। প্রধান শিক্ষক তরুণ কুমার চক্রবর্তী তার কর্মজীবনের এই স্বীকৃতি স্বরূপ ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের শিক্ষারত্ন সম্মানও পেয়েছেন ২০১৯ সালে। এহেন একজন যোগ্য এবং কর্মনিষ্ঠ মানুষকে নিজেদের স্কুল থেকে যেতে দিতে চাইছেন না আশুই পল্লীমঙ্গল বিদ্যাপিঠের ছাত্রছাত্রী থেকে অভিভাবকরা। তাই প্রধান শিক্ষক বুধবার বদলি নেবেন এই কথাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই করোনার বিধিনিষেধকে অগ্রাহ্য করে প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী এবং অসংখ্য অভিভাবক স্কুল চত্ত্বরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষক তরুণ কুমার চক্রবর্তী ছাত্রছাত্রীদের এই পরিস্থিতি দেখে কিছুটা সামাল দিতে চাইলে দেখা যায় বেশকিছু ছাত্রছাত্রী একেবারে শিক্ষকের পা ধরে অনুনয় বিনয় করতে থাকেন। এরকম পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক কিছুটা আবেগ প্রবণ হয়ে জানান, আমার বাড়ি প্রায় একশো কিলোমিটার দূরে। মা বয়সজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আমি বাড়ির কাছাকাছি থাকতে চাইছি। যার জন্য ট্রান্সফার নিয়েছিলাম। কিন্তু মন আমার পড়ে রয়েছে আশুই পল্লীমঙ্গল বিদ্যাপিঠের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। তাই মায়ের স্বাস্থ্য বিবেচনা করে এবং মায়ের মনোভাব বুঝে আগামী পদক্ষেপ নেবো।
তবে প্রধান শিক্ষক যাই বলুন না কেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবক শিক্ষকের বদলি রুখতে একপ্রকার অনড় রয়েছেন।

