কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটের প্রথম দিনে প্রভাব পড়ল না ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৮ মার্চ: ২৮ ও ২৯ শে মার্চ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনগুলির ডাকা দেশ জোড়া সাধারণ ধর্মঘটের সেই ভাবে কোনো প্রভাব পড়ল না ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাধারণ জনজীবনে। সোমবার সকাল থেকে স্বাভাবিক দিনের মতোই পথে নেমেছে সরকারি এবং বেসরকারি পরিবহন।

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সমস্ত মিল ছিল খোলা। অন্যান্য দিনের মতো শ্রমিকরা এসেছেন কাজে যোগ দিতে। বছরে অর্ধেক দিন বন্ধ থাকে মিল গুলো। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকরা মিলের কাজ বন্ধ রেখে কোনো বনধ সমর্থন করতে চায় না। তাই কোনো বনধে এই ব্যারাকপুরের মিলগুলিতে তেমন প্রভাব পড়তে দেখা যায় না। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মিল কর্মীর কাজ চলেগেছিল, যার ফলে আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায় অনেকের। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা ঠিক হওয়ায় কাজ ফিরে পাওয়ায় আর নতুন করে কাজ বন্ধ করতে রাজি নন শ্রমিকরা। তবে এক্ষেত্রে বাম নেতাদের অভিযোগ, রাতের শিফটের শ্রমিকদের দিয়ে আজ কাজ করানো হচ্ছে। তাই মিলগুলো চলছে।

অপর দিকে ফেরি চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। শিল্পাঞ্চলের সবকটি স্কুল খোলা ছিল। সাতসকালে দোকানপাট কিছুটা বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো স্বাভাবিক নিয়মে খোলা হয়। স্বাভাবিক ছন্দ মেনেই জুটমিলে প্রবেশ করলেন শ্রমিকরা। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পথে টহল দিচ্ছেন পুলিশ বাহিনী।

তবে বেলা গড়াতেই ব্যারাকপুর মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হয়ে ওঠে বনধ সমর্থকরা। শ্যামনগর, বেলঘরিয়া, পানিহাটি সহ একাধিক জায়গায় অবরোধ বিক্ষোভ দেখায় বাম কর্মী সমর্থকরা। যার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই সঙ্গে অবরোধকারী লদের সাথে পুলিশ ও নিত্য যাত্রীদের মধ্যে গণ্ডগোল শুরু হয়। শ্যামনগরে বাম নেতা কর্মীরা ঘোষ পাড়া রোড ও শ্যামনগর রেল স্টেশনে রেল লাইন বসে অবরোধ করে যার জেরে বন্ধ হয়ে গেছে শিয়ালদহ মেন লাইনের ট্রেন চলাচল। রেল বন্ধের জন্য সমস্যায় পড়েন নিত্য যাত্রীরা। তারা এর বিরোধিতা করলে বচসা বাধে বাম কর্মীদের সাথে।

এরপর ঘোষ পাড়া রোডের ওপর অশোক নগর মোড় অবরোধ করে বাম নেতা কর্মীরা। যার ফলে ঘোষ পাড়া রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ এসে অবরোধ ওঠাতে গেলে বচসা বেধে যায় বনধ সমর্থকদের সঙ্গে। পুলিশ প্রশাসন জোর করে তাদের উঠিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অপর দিকে বেলঘড়িয়া সিপিএমের পক্ষ থেকে বেলঘড়িয়া স্টেশন অবরোধ করার উদ্দেশ্যে জমায়েত হলেই বেলঘড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। অবরোধকারীদের সরাতে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি হয়। বনধের সমর্থনে পথে পানিহাটি বামফ্রন্ট বিটি রোডের সোদপুর মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। তারা দীর্ঘ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। আফিস যাত্রীদের সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বনধ সমর্থকরা। এরপর থানার পুলিশ বাহিনীর হস্তক্ষেপের উঠে যায় অবরোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *