আমাদের ভারত, ১২ এপ্রিল:হাঁসখালিতে ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করার পর দেহ দাহ করে দেওয়া নিয়ে যখন নিন্দার ঝড় উঠেছে তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বক্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, নির্যাতিতা গর্ভবতী ছিল কিনা। মুখ্যমন্ত্রী এহেন মন্তব্যের পর বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের অধিকাংশরই মুখে কুলুপ। তবে চুপ থাকেননি পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। ফেসবুক পোস্টে সৃজিত লিখেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে হতবাক বাকরুদ্ধ হয়েছেন। কমলেশ্বর প্রশ্ন তুলেছেন “আর কত মানবো?”
বাংলার বিশিষ্ট পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় সোমবার রাতে ফেসবুক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে তিনি হতবাক বাকরুদ্ধ। ফেসবুক পোস্টে মাত্র দুটি লাইন লিখেছেন সৃজিৎ। তিনি লিখেছেন হাঁসখালি ধর্ষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তা অকল্পনীয় আপত্তিকর এবং অসংবেদনশীল। আমি বাকরুদ্ধ স্তম্ভিত।
অন্যদিকে টলিপাড়ার আরেক পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে প্রতিবাদী পোস্ট লিখেছেন। বামপন্থী এই পরিচালকের প্রশ্ন? আর কত কি মানবো? আর্থিক বিপর্যয়, বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি, রাজ্যের উপর ঋণের বোঝা, বেতন বা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অক্ষমতা, অপাত্রে অনুদান, বৃহৎ লগ্নির অভাব। সামাজিক বিপর্যয়, খুন ধর্ষণ, ধর্ম জাত নিয়ে বিদ্বেষ ও তোষনের রাজনীতি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা, মহিলাদের অনিরাপত্তা, নৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট, ঘুষ-স্বজনপ্রীতি, আত্মপ্রচার, নির্লজ্জ মিথ্যাচার, জনমাধ্যমের ওপর চাপ, বিশিষ্টজনের নীরবতা আর কতদিন মানবো?
আরো একটি পোস্টে মমতার হাঁসখালি মন্তব্যকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেছেন কমলেশ্বর। সভ্য সমাজের একজন নারী হিসেবে তাঁর প্রশ্ন,”হতেই পারে, আপনি রাজ্যের শাসক দলের নেতা-নেত্রী কর্মী অথবা সমর্থক বা শাসক আশ্রিত বিশিষ্ট জন। তবু ধর্ষিতা কোনো নাবালিকা বা সাবালিকা আপনারও মানবিকতার প্রার্থী। নিরব থেকে দুষ্কৃতীদের প্রশ্রয় দেবেন না। আপনি তো দুষ্কৃতী নন। ধর্ষকের দায় আপনি কেন নেবেন?”
বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গন উদ্বোধনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “মেয়েটি মারা গিয়েছে ৫ তারিখ। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১০ তারিখ। কেন আগে অভিযোগ দায়ের করলেন না? কেন বডিটা পুড়িয়ে দিলেন? আমি সবটা না জেনেই বলছি, আসলে রেপ হয়েছে না প্রেগনেন্ট ছিল? নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল? নাকি কেউ ধরে চড় মেরেছে বা শরীরটা খারাপ হয়েছে? লাভ আফেয়ার্স তো ছিলই। বাড়ির লোকেরা তা জানতো পাড়ার লোকেরা তো জানতো।”
মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এমনকি মমতার মন্তব্যেরপর যুব তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য একটি চার লাইনের কবিতা লিখেছেন। তাতে এই তরুণ নেতা লিখেছেন, অনেকটা ব্যথার কষ্টের এক ফালি, দেহময় লজ্জার সবটাই হাঁসখালি, বেঁচে ওঠ বোন আমার, বাকি আছে কত সাধ, জেগে উঠে জোরে বল পচে মর জল্লাদ। দেবাংশু গর্জে উঠলেও সৃজিত ও কমলেশ্বর ছাড়া বাংলার বেশির ভাগ বিশিষ্টজনেরাই নিশ্চুপ।

