সুশান্ত ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা, ১২ এপ্রিল: পুলিশ টাকা খেয়ে গৃহবধূকে খুনের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেফতার করছে না। এমনই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের কাউন্সিলর সহ এলাকার মহিলারা পথ অবরোধ করেন। সোমবার রাত সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় ১১ টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ। অবরোধে শামিল ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর বন্দনা দাস কীর্তনিয়া। তাঁর দাবি পুলিশ টাকা খেয়ে মূল অভিযুক্তকে ধরছে না।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার শক্তিগড় সংলগ্ন নরোত্তম পল্লী এলাকায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল ওই এলাকায়।
স্থানীয়বাসিন্দারা সহ কাউন্সিলরের দাবি, গৃহবধূকে বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী রথীন সেন সহ শাশুড়ি সুতপা সেন এবং দেওর রজত সেন এবং তাঁর শ্বশুর অত্যাচার করত। শ্বশুর রবীন্দ্রনাথ সেন ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক। ঘটনার দিন মৃত বধূর বাপের বাড়ির লোকজন এবং এলাকাবাসীরা বনগাঁ থানা এবং বনগাঁ মহাকুমা আদালতের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।

তিনদিন পর আবারও উত্তেজনা ছড়ায় নরোত্তম পল্লী চাকদা রোডে। এদিন টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, অবরোধ শুরু করে বনগাঁ–চাকদা রোডে। তাদের দাবি, এখনও রথীনের বাবা অর্থাৎ গৃহবধূর শ্বশুর রবীন্দ্রনাথ সেন’কে গ্রেফতার করা হয়নি । সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির আঙুল তুলছেন তৃণমূল কাউন্সিলর বন্দনা দাস কীর্তনিয়া। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে পুলিশকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

কাউন্সিলর বলেন, গৃহবধূকে খুন করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ সেন। পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পুলিশ প্রচুর টাকা নিয়ে অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, যারা অভিযোগ করছে তাদের হুমকি দিচ্ছে। এমন ঘটনায় বনগাঁর পুলিশের উপর আস্থা উঠেছে বনগাঁবাসীর।

