শিক্ষিকার চাকরি পেলেন আন্দোলনকারী ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩১ মে: চাকরি পেলেন ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস। এসএসসি’তে নিয়োগের সুপারিশ পত্র পেয়েছেন তিনি।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত চাকরি প্রার্থী সোমা দাসের চাকরির সুপারিশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। এর ভিত্তিতে ৭ দিনের মধ্যে সোমার চাকরির ব্যবস্থা করার নির্দেশিকা জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর।

নলহাটিতে তাঁর বাড়ির কাছেই মধুরা হাই স্কুলে চাকরি পেয়েছেন সোমা দাস। আদালত, শিক্ষা দফতর ও এসএসসিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সোমা। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভালো রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমা এই প্রতিবেদককে মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, “আচার্য সদন থেকে এসএসসি’র সুপারিশপত্রটা নিয়ে এসেছি। ওরা মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। পর্ষদ প্রথা মেনে নিয়োগপত্র দেবে। বাড়ি থেকে স্কুল প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে। যে পরীক্ষায় বসেছিলাম, সেটাই পেয়েছি। নবম-দশমে বাংলা পড়াব।”

খুশি? প্রশ্নের জবাবে সোমা বলেন, “না। খুশি হতে পারলাম না। আমি তো আমার চাকরির জন্য আন্দোলন করিনি। সফল প্রত্যেকে কেন কাজ পাবেনা? এই ঈদের দিনেও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ)-এর মোবাইলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরা আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু ক’দিন আগে শিক্ষা দফতর থেকে আমাদের ক্যাটাগোরিতে ২৪৭টা পোস্ট মঞ্জুর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অথচ, যোগ্য, উত্তীর্ণ অপেক্ষমানের সংখ্যা দেড় হাজারের মত। এখন এঁদের প্রায় সবারই আত্মহত্যা করার উপক্রম (সোমার ভাষায় ‘সুইসাইডাল পয়েন্ট’)। কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।”

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে ‘বেনিয়ম’। কলকাতা হাইকোর্টে যখন মামলা চলছে, তখন চুপ করে নেই চাকরি প্রার্থীরাও। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এসএসসি’তে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে ধর্নায় বসেছেন তাঁরা। আন্দোলনে সামিল হন বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা সোমাও। এসএসসি’র নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে চাকরির দাবিতে গান্ধী মূর্তির নীচে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন সোমা দাস। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। পিছিয়ে আসেননি তাঁর ন্যায্য অধিকারের লড়াই থেকে। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা থেকে।

এদিকে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত সেই খবর পৌঁছয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর এজলাসেই চলছে শিক্ষক নিয়োগ মামলা। সঙ্গে সঙ্গেই সোমা দাসকে হাইকোর্টে ডেকে পাঠান বিচারপতি। আদালতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি অন্য কোনও সরকারি চাকরি করতে ইচ্ছুক কিনা? যার উত্তরে সরাসরি “না” বলেন সোমা। ফিরিয়ে দেন খোদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির প্রস্তাবও। এর পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এসএসসি’র কাছে মানবিকতার খাতিরে তাঁর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার আবেদন করেন। কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশনের তরফে একটি পদ তৈরি করে সোমা দাসের চাকুরির সুপারিশ করা হয়। অবশেষে সেই সোমা শিক্ষা হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *