দুষ্কৃতীরা হামলা করেছিল, তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল বাহিনী, দাবি কোচবিহারের পুলিশ সুপারের

আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল:শীতলকুচি গুলির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির ইশারাতেই গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে তৃণমূল নেত্রীর উস্কানির জন্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সম্পর্কে কোচবিহারের পুলিশ সুপার দেবাশীষ ধর একটি বিবৃতি দিয়েছেন। গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন দুষ্কৃতীরা সিআইএসএফ তথা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। ফলে আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সাংবাদিক বৈঠক করে কোচবিহারের পুলিশ সুপার দেবাশীষ ধর জানান, সেখানে এক যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার চিকিৎসা করছিল স্থানীয় কয়েকজন। সেই সময়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বাহিনীর কয়েকজন জাওয়ান। কিন্তু তাতে গুজব ছড়ায় যে সিআইএসএফের মারে যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আর তারপরই ৩০০-৩৫০ গ্রামবাসী যাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ছিল, তারা জাওয়ানদের ঘিরে ধরে। তাদের অনেকের হাতেই দা, খুন্তি ইত্যাদি ঘরোয়া ধারালো জিনিস ছিল। তারা জাওয়ানদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি একটা সময় ইভিএম ছিনতাই হয়ে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়। তখনই নিয়ম মেনে গুলি চালিয়েছে বাহিনী। ১৫ রাউন্ড গুলি চলে। ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। মে চার জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের নাম নূর আলম, হামিদুল মিঞা, সামুয়েল মিঞা, ইমানুয়েল মিঞা। অন্য আর একজনের থাইয়ে গুলি লাগে। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় বেশ কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ানও আহত হয়েছে। জখম হয়েছেন একজন হোমগার্ড।

অন্যদিকে দিকে শীতলকুচির আরও একটি বুথে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক যুবকের গুলিতে মৃত্যু হয়। এক দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয়েছে আনন্দ বর্মন নামে বছর ১৮ র ওই যুবককে। তৃণমূলের তরফে মৃত যুবককে নিজেদের দলের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তার পরিবার জানিয়েছে ওই যুবক বিজেপির সমর্থক ছিল। পুলিশ সুপার জানান এই ঘটনায় তারা দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *