আমাদের ভারত, ১৭ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর শিল্প, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শারদ সম্মান প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে উৎকর্ষে আরোহণ। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, ঐতিহ্য এবং নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই শারদ সম্মান দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, উদ্যোক্তা ও পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করে চলেছে।
এ বছরও এই প্রতিযোগিতায় মূল উদ্যোক্তা অনুপম মজুমদার বলেন, প্রায় সাড়ে চারশো পুজো কমিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল কলকাতা ও শহরতলি থেকে। অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সুচারু মূল্যায়নের ভিত্তিতে একাধিক পর্যায়ে সেরাদের নির্বাচন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কলকাতার সেরা ৪০টি পুজো নির্বাচন করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সেই তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হয় সেরা ১২টি পুজো। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় সেরা ৮টি বারোয়ারি দুর্গাপুজো।
শহরতলির জেলাগুলি থেকে আরো ৮টি পুজো মিলে এবছর মোট ১৬টি সেরা পুজোকে পুরষ্কৃত করা হয়।

শুধু কলকাতার বারোয়ারি পুজোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই উদ্যোগ। উৎকর্ষে আরোহণের অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী হাওড়া শহরের সেরা ৪টি দুর্গাপুজো এবং কলকাতা কর্পোরেশন এলাকার সেরা ৪টি আবাসনের দুর্গাপুজোও নির্বাচন করেছেন। এর ফলে বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি আবাসনকেন্দ্রিক দুর্গোৎসবের শিল্পভাবনা, সৃজনশীলতা ও আয়োজনকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দীর্ঘ দেড় দশকের যাত্রাপথে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনকে তুলে ধরার পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছে। নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর বিচার এবং দুর্গাপুজোর শিল্প- সংস্কৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার অঙ্গীকারই উৎকর্ষে আরোহণ শারদ সম্মানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে অনন্য আবহ তৈরি হয়, তাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই নিজস্ব মর্যাদা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে উৎকর্ষে আরোহণ শারদ সম্মান।

