আমাদের ভারত, ১৭ অক্টোবর: ২০২৭ সালের জনগণার প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে ১৯৯০ সালের সেন্সাস বা জনগণনা নিয়মে বড় সংশোধন করল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিতে সরকারি স্কুলের পাশাপাশি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে।
গণনাকারী হিসেবে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই বিষয়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ। আইনি সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিল হরিয়ানা প্রোগ্রেসের স্কুল অফ কনফারেন্স। সেই মামলায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গণনার ডিউটিতে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন বা তার অধীনে তৈরি নিয়মে সরকারের কোনো আইনি অধিকার নেই বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গণনাকারী বা সুপারভাইজার হিসেবে নিযুক্ত করার। আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীদেরই বেসরকারি স্কুল বা তার কর্মীদের এই কাজে ব্যবহার করা যেত। যার মধ্যে বেসরকারি স্কুল বা তাদের কর্মীরা পড়েন না।
৮ অক্টোবর হরিয়ানা হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের দুটি চিঠির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়। ২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। আগের নিয়মে শুধুমাত্র শিক্ষক বা যে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে সেন্সাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সেই পরিধি অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সরকারি স্থানীয় প্রশাসন অনুদানপ্রাপ্ত বা অনুদানহীন বেসরকারি সংস্থা, সোসাইটি বা ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক, কোম্পানি এবং ট্রাস্ট- এর ক্লার্ক বা কর্মীদের এই কাজে নিয়োগ করা যাবে। এছাড়া রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি প্রশাসন উপযুক্ত মনে করলে অন্য যে কোনো ব্যক্তিকে সেন্সাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।
স্বাধীনতার পর এটি অষ্টম জনগণনা হতে চলেছে, যা কোভিড মহামারীর কারণে ২০২১ সালে স্থগিত রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিশাল কর্মকান্ডের জন্য ১১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়া, উত্তরাখণ্ডের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ সালের ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে লাদাখ এবং জম্মু- কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত্ত এলাকায় গত সেপ্টেম্বর মাসে কাজ করা হয়েছে।
আইনি চ্যালেঞ্জ বহাল থাকলেও কেন্দ্রের এই নতুন নিয়মের ফলে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও কর্মী সঙ্কটের সমস্যা অনেকটা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

