দুর্ঘটনার কারণেই মা দুর্গার প্রতিমা একচালা থেকে পাঁচচালায় রূপান্তর! History, Durgapuja, ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে স্বয়ং নেতাজি

আমাদের ভারত, ১৬ অক্টোবর: একসময় দুর্গাপুজো মানেই ছিল একচালার প্রতিমা, তা বনেদি বাড়ির পুজোই হোক কিংবা বারোয়ারী পুজো। কিন্তু আজকের সময়ে বারোয়ারি পুজোতে দেখা যায় পাঁচ চালার প্রতিমা। এক চালার প্রতিমা থেকে পাঁচচালার প্রতিমা তৈরির পিছনে রয়েছে এক দুর্ঘটনা ও তার থেকে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বেড়িয়ে আসার ইতিহাস। এর সাথে জুড়ে আছেন একাধারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও অন্যদিকে প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী গোপেশ্বর পাল।

১৯৩৮ সালের কথা। সেই সময় আজকের মত কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মন্ডপ তৈরি হতো না। মণ্ডপ হত হোগলা পাতা দিয়ে। সেই সময় কুমোরটুলি সর্বজনীন আর কুমোরটুলি পার্কের পুজো পাশাপাশি হতো। সেই বছর দুই ক্লাবের মধ্যে বাজি প্রতিযোগিতা চলছিল পঞ্চমীর রাতে। কুমোরটুলি পার্কের একটি বাজি কুমোরটুলি সর্বজনীন- এর মন্ডপে এসে পড়ে এবং প্রতিমা সহ গোটা মন্ডপ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সভাপতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

পরের দিন ছিল ষষ্ঠী বা দেবীর বোধন। এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নিজে গভীর রাতে ছুটে যান শিল্পী গোপেশ্বর পালের কাছে। দ্রুত একটি নতুন প্রতিমা গড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু একরাতে এই বিশাল কাঠামোয় নতুন প্রতিমা কী করে তৈরি করবে? তা প্রায় অসম্ভব। শিল্পী গোপেশ্বর পাল উপস্থিত বুদ্ধি খাটান। একচালা কাঠামোটি ভেঙ্গে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে পাঁচটি আলাদা আলাদা কাঠামো বা চালায় বিভক্ত করে দেন। এক জন শিল্পী এক একটি প্রতিমা গড়েন। গোপেশ্বর পালের সেই এক রাতের অসামান্য দক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ততায় বাঙালি প্রথমবার পাঁচশালার প্রতিমা দর্শন করে।

প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী নেতাজি এই পরিবর্তনের পক্ষে একটি সুন্দর যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, মা যখন অসুরের সাথে যুদ্ধ করছেন তখন সন্তানদের তার সামনে না থেকে একটু আড়ালে বা পাশে থাকাই ভালো। ১৯৩৮ সাল থেকে আধুনিক বারোয়ারি বা সর্বজনীন
পুজোগুলিতে পাঁচ চালায় প্রতিমার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *