পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ সেপ্টেম্বর: শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়কে আট দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত। শুক্রবার বেলা ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ তাঁকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী সংস্থা। মামলার তদন্তের স্বার্থে সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় সিআইডি। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।

আদালত চত্বরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য শুক্রবার সকাল থেকেই মেদিনীপুর আদালত চত্বরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
শালবনি এলাকায় জমির জাল রেকর্ড তৈরি করে তা বিক্রি করার অভিযোগে এর আগে গ্রেফতার করা হয় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি সুজয় হাজরাকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি। সুমিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা কী সূত্রে এবং কেন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

শালবনিতে জমি দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ইমরান মেদিনীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি। আদালতের সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে যে ন’টি ধারায় মামলা করা হয়েছে, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধেও একই ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিন আদালতে সুমিত রায়ের পক্ষে একাধিক আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী দাশরথী নন্দ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁর আইনজীবীকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি সুমিতের শারীরিক সমস্যার কথাও আদালতের নজরে আনা হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী।
সুমিত রায়ের পক্ষ থেকে আদালতে একাধিক আবেদন পেশ করা হয়। পাশাপাশি তিনজনের নাম জমা দেওয়ার বিষয়েও আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
আট দিনের সিআইডি হেফাজতে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীদের হাতে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

